রৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রোদ্রবৃষ্টি
   
 
  সঠিক তথ্যের অভাব

 

সঠিক তথ্যের অভাবে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের
খাসজমি বিতরণ ব্যবস্থায় ভূমিহীনরা বঞ্চিত হচ্ছে ।
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
 
ভূমিকা :- মেঘনা ও বঙ্গপসাগর ঘেঁসা নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চল নানান ভৌগোলিক ভাঙ্গাগড়ার মধ্যে অবস্থান করছে । এ অঞ্চলের মানুষ একদিকে নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন নতুন ভূমি সাগর বক্ষ থেকে জেগে উঠছে। একদিকে মানুষ ভূমি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে খাসজমি পেতেও তারা নানান বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। তা ছাড়া এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ দিনমজুরের কাজ করে। প্রায় তারা নিত্য টানাপোড়নের মধ্যে অভাবিজীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। এখনো অনেকেই যুগযুগ ধরে বংশপরম্পরায় ভূমিহীন অবস্থায় রয়ে গেছে। যদিও সরকারি নীতিমালায় নতুন খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার অধিকার এইসব ভূমিহীনদের রয়েছে। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন নীতিমালার বিষয়ে অজ্ঞতার কারনে এরা খাসজমি বন্দোবস্ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সব খেটে খাওয়া মানুষদের, যাদের নিত্য চাল আনতে পান্তা ফুরায় প্রতিদিন যাদের প্রচন্ড হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে দুবেলা অন্ন জোগাতে হয়, জীবন যাদের শত ছিন্নতায় বাঁধা, তাদের তথ্যের পিছনে ঘুরে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য শক্তি ও সামর্থ্যের অবকাশ কোথায়।
সার্বিকভাবে নোয়াখালীর ভূমিহীন সমস্যা অত্যন্ত প্রকট । নদী ভাঙ্গনের ফলে  নোয়াখালীর বিভিন্ন জনপদ প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে । এই নদীভাঙ্গনের কারনে বৃহত্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর, হাতিয়া, রামগতি ও কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিবছর বাস্তু ভিটা হারিয়ে ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে। স্বাধীনতার পরবর্তী কাল থেকে ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়া শুরু হলেও আজ পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক ভূমিহীন খাস জমি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। খাসজমি বন্দোবস্ত পেতে যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও জটিলতা রয়েছে তা ডিঙ্গানো একজন সাধারন ভূমিহীনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ব্যপার । নতুন চর জাগলে ভূমিহীনরা সে চরে স্বাভাবিক ভাবে কখনো বসতি পাননা । একটুকরো জমির জন্য তাদের অনেক লাঞ্ছনা গঞ্জনা সইতে হয়। কখনো জড়িয়ে পড়তে হয় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে।এখানে আছে  ভূমিগ্রাসী জোতদার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচার। এরা মধ্যযুগীয় কায়দায় দখল করে নেয় সরকারী খাসজমি গুলো। সংঘাত সংঘর্ষ হামলা মামলায় হারিয়ে যায় ভূমিহীনদের বাঁচার একটুকরো স্বপ্ন।  
এসব কিছুর পরেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেছে । বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন নীতিমালায় ভূমিহীনদের কিছু কিছু জমি বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। তবে প্রায় ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, এর জন্য ভূমিহীনদের প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভূমিহীনদের নামে বেনামে জোতদাররা অনেক জমি নিজেরাই করায়ত্ত করে নিয়েছে।  খাসজমি প্রদান ছাড়াও এরশাদরকারের আমলে গুচ্ছগ্রাম, বিএনপি সরকারের আমলে আদর্শ গ্রাম এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রভৃতির মাধ্যমে ভূমিহীনদের পূনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নোয়াখালী সদর ও সুবর্নচরের চর মজিদ, চর মহিউদ্দিন , হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ সহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এর মাধ্যমে ভূমিহীনদের মাথা গুঁজার স্থান হলেও তাদের অধিকাংশেরই জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা মিলেনি। সরেজমিনে দেখা গেছে অনেক বরাদ্ধপ্রাপ্ত ভূমিহীন আশ্রয়ণ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন
বাংলাদেশের ভূমিবন্দোস্ত নীতিমালায় ভুমিহীনদের রয়েছে অগ্রাধিকার। বিভিন্ন সময় সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারি করে থাকে। কিন্তু ভুমিহীনরা সে বিষয়ে থাকে একেবারে অজ্ঞ। এ সুযোগে এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী লুটেরা চক্র ভুমিহীনদের সে সুযোগ ষোলআনা ভোগ করে নেয়। ফলে প্রকৃত ভূমিহীনরা থাকে বঞ্চিত অবহেলিত। নোয়াখালী সদরের সল্লা গ্রামের রিক্সা শ্রমিক আবুল কালামের(৪৫) শুধু ভিটির উপর দোচালার একটি ঘর রয়েছে। তিনি প্রতিদিন সেখান থেকে পাঁচ ছয় কিলোমিটার দূরে সোনাপুর বাজার এবং এর আসেপাশে রিক্সা চালিয়ে থাকেন। এছাড়াও বাড়তি কাজ হিসাবে অন্যের জমি বর্গা করে থাকেন। কিন্তু কিভাবে খাস জমি বন্দোবস্ত পেতে হয় তিনি তা জানেন না। ভূমিহীনদের জন্য যে সকল প্রজ্ঞাপন জারি হয় তাও তিনি কখনো শুনেননি অথচ ভূমি অফিস গুলোর কাছাকাছি রিক্সা নিয়ে তাঁর বিচরণ। সে অফিস গুলোতো এ বিষয়ে অনেক তথ্য থাকলেও তার কাছে তা কখনো পৌঁছেনি। শুধু শুনেছেন টাকা দিলে জমি পাওয়া যায়। তিনি জানান প্রতিদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে এর জন্য খোঁজখবর নেওয়ারও ফুরসত থাকেনা। তিনি আরো জানান, তার মত এ রকম আনেকেই আছেন যাদের এ বিষয়ে কোনো খবরই নেই। সুবর্ণচরের অসংখ্য ভূমিহীন বেড়ির পাশে কোনোরকম মাথাগুঁজার ঠাঁই করে আছে। আনেক আসহায় ভূমিহীন নারী ফসলি মাঠে কায়িক শ্রম করে আথবা সরকারী বেসরকারী সংস্থাগুলোর রাস্তা মেরামত বা মাটির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এদের আনেকেই উপায়হীন হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিও করে। এদের পাশেই ভূমিগ্রাসিরা নানান কায়দায় জমি দখল করে আছে কিন্তু একটুকরো জমিও এদের ভাগ্যে মিলেনি।
 
 
 
 
 
(কেস স্টাডি-১)
বেলীরাণীর এক টুকরো জমির স্বপ্ন
বেলী রাণী বনিক(৩৫)দের সন্দীপের কালাপানিয়াতে ছিলো বিপুল জায়গা জমি। প্রায় দশ বছর আগে স্বামী ভূবন চন্দ্র বনিক মারা যান। নদীতে সব ভেঙ্গে গেলে দুটি কোলের শিশু নিয়ে নি:স্ব কপর্দক শূন্য হয়ে সুবর্ণ চরের শিবচরণ গ্রামের পশ্চিমে বেড়ির বাঁধে পাশে এসে আশ্রয় নে এখন ছেলে ভুপালের বয়স ১২ বছর আর মেয়ে সুইটির বয়স ৯ বছর। তাদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তার শেষ নেই বেলি রাণীর। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করে যান তিনি। সুঠাম দেহের বেলীরাণী জানান,কায়িক শ্রম করে তিনি জীবন যাপন করছেন কখনো মাটিকাটা কখনো ধান ক্ষেতে বদলার কাজ যখন যা পান তাই করেন। ডানিডা প্রকল্পের কাজে সকাল ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজ করলে পান ৪০ টাকা এবং সেই সাথে পান  এক কেজি চাল। জমির মালিকদের মাঠে কাজ করলে তেমন টাকা পাওয়া যায়না। তাছাড়া মেয়ে মানুষদের অনেকে কাজে নিতে চায়না । নিলেও টাকা কম দেয়। তিনি জানান এত কষ্ট করার পরও কোথায় কিভাবে জমি পাওয়া যায় তা তার জানা নেই। তিনি জানান,শুনেছি জমির জন্য আসলেই টাকা দিতে হয় তাই কখনো এদিকে  আসা হয়নি ডানিডার একটি মাটির প্রকল্পে তাঁর সাথে আরো অনেক মহিলা এ কাজ করেন। জাহানারা বেগম(৪০), ছকিনা খাতুন(৩৫), নূর জাহান বেগম(৫০), মিনতি রাণী পাল(৩৫), মোহছেনা বেগম(৪০) এই সব ভূমিহীন নারীরা কেউ জানেনা ভূমিহীনদের জন্য সরকারের কিকি নীতিমালা রয়েছে।অথচ এদের সামনে থেকেই খাসজমি গুলো ভূমিগ্রাসীরা খাবলে খাচ্ছে। আর এরা থেকে যাচ্ছে চির দীনহীন দিনমুজুরে। ধীরে ধীরে নি:শেষ হচ্ছে এদের জীবনী শক্তি। আর সর্বাঙ্গীনভাবে জাতি হয়ে পড়ছে দুর্বল থেকে দুর্বলতর। বেলি রাণী জানান, সন্দীপের কালাপানিয়াতে তাঁদের অনেক জায়গা জমি ছিলো। তাদের আর্থিক অবস্থাও ছিলো ভালো। নদী ভাঙ্গনের ফলে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। শেষে অনেক কষ্টে চরবাটার  শিবচরণ গ্রামের বেড়ি বাঁধের পাশে নির্মল পোদ্দার নামের আরএক ভূমিহীনের কাছ থেকে তিন হাজার পাঁচ শ টাকা দিয়ে একটি থাকার ভিটি নিয়ে কোনো রকম ছাপরা বানিয়ে বাস করছেন। আর সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে যান। এখন বেলি রাণীর একটাই প্রত্যাশা, কি করে সন্তানদের জন্য এক টুকরো জমির ব্যবস্থা করবেন।
 
বাহিনী নামের সন্ত্রাসী চক্র:- নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে বিপুল খাস জমির ভান্ডার । দুর্গম এলাকায় এগুলো নিয়ন্ত্রন করছে  বিভিন্ন বাহিনী নামের এক সন্ত্রাসী চক্র। এরা সরকারি খাস জমি গুলোকে মাপঝোঁক করে ভূমিহীনদের কাছে বিক্রি করছে। এদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকলেও এরা এখনও এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। নবগঠিত সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিনে নতুন জেগে উঠা চর নাঙ্গলিয়া নিয়ন্ত্রন করেছে বশার মাঝি নামে এক বাহিনী সর্দার। এখানে একটি সরকারী খাস জমিতে অনেক ভূমি হীন বসবাস করছেন। এখানে বিশাল এলাকায় রাষ্ট্রের ভিতরে যেন আরএকটি রাষ্ট্র। বাহিনীর লোকজন নিজেদের মত করে খাস জমি গুলো মাপঝোঁক করে বিক্রি করছে। বিক্রি করা মানে নির্দিষ্ট যায়গাটিকে কসবাসের জন্য দখলদেয়া। এর জন্য ভূমিহীনদের টাকা দিতে হয়। আর বাহিনীদেরকে দিতে হয় নিয়মিত চাঁদা। সরকারী কোনো সংস্থা এখানে কাজ করেনা।
 
(কেস স্টাডি-২ )
কার জমি কে বেচে
ভূমিহীন গফুর আলী মানিক(২৬)। চর নাঙ্গরিয়াতে এক টুকরো জমি নিয়ে একটা ঘর তুলে বসবাস করছেন।  তিনি জানান, আতাউর রহমান নামে তাঁর এক নিকট আত্মীয় বশর মাঝির কাছ থেকে কিছু জমি টাকা দিয়ে কিনে নেমুখে মুখে এই কেনা বেচায় কোনো কাগজ পত্র থাকেনা। শুধু দখলে থাকে মাত্র। দখল চলে গেলে জমিও হারাতে হয়। এই জমির সরকারি কোনো কাগজপত্র নেই। মানিক জানান, গত ২০০৪ সালে ঐ আত্মীয় থেকে বারো হাজার টাকা দিয়ে এক দাগে পৌনে উনিশ পন্ডা জমি কিনেছেন। এই জমি মানিক যতদিন তার দখলে রাখতে পারে ততই তার লাভ। কারন এই জমি খুবই উর্বর। যে কোনো ফসলের এখানে প্রচুর ফলন হয়। মানিক জানান, এখানে প্রায়ই বাহিনীদেরকে চাঁদা দিতে হয। চাঁদা না দিলে এখানে টিকা যায়না। প্রথম প্রথম দুইশ টাকা করে দিতে হতো এখন মাসে একশ টাকা করে দিত হয়।জমি বেচাকেনাতেও এদেরকে টেক্স দিতে হয়। সরকারী জমি কি করে বন্দোবস্ত পেতে হয তার কিছুই তিনি জানেন না। এ বিষয়ে কোনো তথ্যই তার কাছে নেই। মানিক জানান, মাঝে মাঝে বাহিনীর লোকজন এসে হুমকী দিয়ে যায়, চরে যদি পুলিশী অভিযান হয়, তারা যদি টিকতে নাপারে, তাহলে ভূমিহীনদেরকেও তারা টিকতে দিবেনা। পুলিশ মাঝে মাঝে এসে টহল দিলেও এদেরকে কখনো পায়না। এরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বইরে। মানিক তার জমিতে মাটি কেটে চার চারা একটি খড়ের ঘর তুলেছেন। সেখানে তিনি তাঁর চার বছরের শিশু পুত্র ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন। বাড়ির চতুর্দিকে নানান জাতের গাছ লাগিয়েছেন। তাঁর জমিতে ধান ছাড়াও মৌশুমে নানান শাকসব্জী আবাদ করে থাকেন। ছোট একটা পুকুর আছে। সেখানে মাছ চাষ করছেন। আয়ও ভালো। পাশে তাঁর আরো তিন ভাইয়ের এরকম জমি রয়েছে। তাঁর জমিতে চাষাবাদ ছাড়াও তিনি কামলার কাজ করে থাকেন। তিনি যখন এলাকার বাইরে কয়দিনের জন্য কাজ করতে যান তখন সে বাড়ি সামলিয়ে রাখেন তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম(২০)। তার ছেলে ইয়াসির আরাফাত হৃদয়ের এখন ছয় বছর বয়স। তিনি পড়া লেখা না জানলেও, তাঁর আশা, ছেলেকে তিনি ভালোভাবে পড়ালেখা করাবেন। এ অবস্থায় সব সময় তাঁর মনে উচ্ছেদের আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বিহিনীরা এসে সে জমি দখল করে নিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া সরকার যদি তাঁর জমি নিয়ে নেয় তাঁর কিছুই করার নেই। মানিক জানান, তিনি পড়া লেখা জানেন না তবে কোনো রকম নাম দস্তখত করেত পারেন মাত্র। গ্রামের বাজারে টিভি রেডিও মাঝে মাঝে শুনেন। বাজারের দোকান গুলোতে মাঝে মাঝে সংবাদ পত্র আসে। অন্য কেউ পড়লে তিনি শুনেন। কিন্তু সেটা খুবই কম। তিনি জানান ভূমিহীনদের মাঝে লেখাপড়া মোটেও নেই। শিশু থাকতেই তারা বিভিন্ন কাজে লেগে যায়। তিনি জানান এলাকায় এনজিওরা আসে ঋণের জন্য। জমির তথ্য তারা জানেননা। তাদেরকে জিজ্ঞেসও কখনো করেননি। তিনি মনে করেন ঋণ নিয়েই তারা ব্যস্ত। অন্যকোনো সহযোগীতা তাঁরা করতে পারবেন না। চরবাটা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মুকিত মেম্বারকে তিনি চেনেন। সবারই এককথা, জমি নিতে হলে টাকা লাগবে। তাই তিনি সেদিকে আর ঘুরাঘুরি করেননি। যারা জমি পেয়েছে তাদের আনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মানিক আক্ষেপ করে জানান, সরকারি জমি এ ভাবেই বাহিনীরা বেচা কেনা করে। এটা যেন তাদের সরকার। কার জমি কে বেচে কারো কোনো খবর নাই। সিকস্তি পয়স্তি কি? :- বেঙ্গল রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৮২৫ থেকে জানা যায়, কোনো ভূ-সম্পত্তি নদী বা সাগরে ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেলে তা ভূ-সম্পত্তির ভাঙন বা ‘সিকস্তি’ হিসাবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, কোনো ভূ-সম্পত্তি নদী বা সাগরে বিলীন হওয়ার পর পুনরায় ‘পূর্বস্থানে’ জেগে উঠলে তা ‘পয়স্তি’ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু নদী বা সাগরে ‘নতুন’ জেগে ওঠা চর প্রচলিত আইনানুযায়ী ‘খাসজমি’ হিসেবে সরকারের ১নং খতিয়ানভুক্ত করা হয়।
 
এলাকা পরিচিতি:- নোয়াখালী গেজেটের তথ্য অনুযায়ী বলা হয়েছে, বঙ্গপসাগরের মোহনায় নোয়াখালী জেলাটি একটি ব-দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। নোয়াখালীর আদি নাম ছিল ভুলুয়া। ১৮২২ সালের ২৯ মার্চ ভুলুয়া পরগনার অধীনে এটি পত্তন হয়। প্রাক্তণ বাকেরগঞ্জ বা বরিশালের সঙ্গে ছিলো এর সংযুক্তি। দক্ষিণ সাহবাজপুরও বলা হতো একে। কুমিল্লার সুধারাম, বেগমগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, বাকেরগঞ্জের দক্ষিণ সাহবাজপুর ও উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের হাতিয়া ও সন্দ্বীপ নিয়ে এটি গঠিত হয়েছিল। এর জেলা সদর স্থাপিত হয় নোয়াখালী মৌজায়।
১৯৫০-এর দশকে নোয়াখালী শহর সম্পূর্ণ নদীগর্ভে হারিয়ে গেলে বর্তমান মাইজদী কোর্টে এর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে মাত্র কয়কে বছররে ব্যবধানে নদী সিদস্তি পুরাতন জেলা সদরটি নদীর্গভ থেকে আবার পত্তন বা পয়স্তি হয়। বর্তমানে সে পুরাতন শহরটি একটি নতুন চরের নোয়াখালী ইউনিয়নের একটি মৌজা। যেখানে এখন প্রাচীন শহরের চিহ্নটিও নেই। ১৯৮৪ সনে ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা গঠিত হলে নোয়াখালীর মধ্যে রাখা হয় ছয়টি থানা, সেগুলো হলো- চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কোম্পানিগঞ্জ, হাতিয়া ও সদর। পরর্বতী কালে নোয়াখালী সদরকে ভেঙ্গে সুর্বণচর ও বেগমগঞ্জকে ভেঙ্গে সোনাইমুড়ি উপজলো নামে আলাদা দুটি উপজলো গঠতি হয়। পুরো জেলাটি ৩ হাজার ৬ দশমিক ৯৯ বর্গ কিলোমিটার, তার মধ্যে ৮’শ ৬ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার নদী এবং ৫’শ ৪৫ দশমিক ৬৬ বর্গকিলোমিটার সৃজিত বনভূমি। নোয়াখালী জেলা ২২.০৭ ও ২৩.০৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৫৩ ও ৯১.২৭ দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
অভিযোগ রয়েছে, সেটেলমেন্ট অফিস এবং জরিপ বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালীরা।
সরকারি জরিপ বিভাগের বিধান আছে কোন জায়গায় কতটুকু জমি কোন সময়ে ভেঙ্গে গেছে কিংবা জেগে উঠেছে অর্থাৎ শিকস্তি পয়স্তি জরিপ সার্বক্ষণিক করার। দিয়ারা জরিপ সবসময়ই চলার কথা। কিন্তু নানান কারণে নোয়াখালীতে এর সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। জোতদার ভূমিগ্রাসীরা এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এক সময় যা খাসমহল ছিলো সেই কাগজপত্রগুলো আর পাওয়া যায় না। প্রায় ক্ষেত্রে রর্কেডরুমে রক্ষতিবালাম বইয়রে পাতা থাকে না কিংবা ছিঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। সরকারি হফোজত খানায় নিরাপদ এলাকায় বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া হচ্ছে, কিন্তু এর জন্য কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। নদী থেকে যেখানেই জমি জেগে উঠছে সেখানেই একদল জোতদার তার মৌরসী জমি বলে দাবি কর।ে এ সংক্রান্ত কাগজও তৈরি করা হয়ে যায়। আবার এ সংক্রান্ত স্বাক্ষ্য আইনেরও জটিলতা আছে। আইনের দুর্বলতা কিংবা আইনের ফাঁক ফোকর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যবহার করছে ভুমিগ্রাসী প্রভাবশালীরা।
 
সিকস্তির ঘোরটোপে বহোত খাসজমি :- ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্তকৃত খাসজমি আইনের ফাঁক গলিয়ে সিকস্তি পয়স্তি হিসেবে দখলের বহু নরিজ রয়েছে নোয়াখালী অঞ্চলে। দেখা যায় কোনো এলাকায় বিশ পঁচিশ জন ভূমিহীন এক বা দেড় একর করে জমি বন্দোবস্ত পেলো। তার কিছুদিন পর  শরিক একজন সে জমি থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। আরো কিছুদিন পর দখো যায় ভূমিহীনরা কেউই সেখানে আর অবস্থান করছনো। বুঝা যায়, এই ভূমিহীনরাও থাকে সাজানো। কছিু ভাড়াটে ভূম জোতদারদরে পক্ষে এ সাজানো নাটকটি করে থাক।ে অন্যদকিে ভূমিহীনদের খাসজমি বন্টণের ক্ষেত্রে কবুলিয়তে শর্ত থাকে যে, এই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে না। কথতি ভূমহিীন সম্পত্তিটা বন্দোবস্তের পরপরই জোতদারদরে কাছে নামমাত্র মূল্যে বক্রিি করে দয়িে যান। ভূমিগ্রাসী প্রভাবশালীরা বন্দোবস্তপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জমি রেজিষ্ট্রির নাম করে কিছু টাকা দিয়ে জমি থকেে উচ্ছদে করে দেয়। পরবর্তীতে এই জমিগুলো জাল দলিল করে মামলার মাধ্যমেমৌরসী জমি অর্থাৎ চরে জেগে ওঠা র্পূব পুরুষদরে পয়স্তি জমি হিসেবে দখল নয়ো হয়। এতে নানা মুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়।   
                           
 
শিখস্তি পয়স্থি :- নোয়াখালীর ভূমি বন্দোবস্তের ইতিহাসের সাথে জেলার ভাঙ্গাগড়ার ইতিহাস অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। শত বছর ধরে এ জেলার উপকূলের ভূমি যেমন ক্ষতবিক্ষত হয়েছে । ভেঙ্গে ভেঙ্গে সাগর আর মেঘনায় তলিয়ে গেছে, তেমন করে আবার জেগেছে নতুন নতুন জনপদ। রাতারাতি কেউ হয়েছে নি:স্ব পথের ভিখারি। আবার এক শ্রেণীর মানুষ গড়ে তুলেছে তার সম্পদ আর ভাগ্য । ভূমিকে ঘিরে এ এলাকার মানুষের মধ্যে ঘটেছে এক অদ্ভুত রুপান্তর। জমির লোভে অনেকে হয়েছে হিংস্র লোভাতুর । এখনো চলছে সেই নিরন্তর ভাঙ্গাগড়ার খেলা। সেই তালে উপকূল জুড়ে চলছে দখল পাল্টা দখল, হিংস্রতা, হানাহানি, মামলা মকদ্দমা পুলিশ কোর্ট কাছারী আর জাল জালিয়াতি। এর সঙ্গে যেমন খেটে খাওয়া নি:স্ব ভূমিহীন জড়িত তেমনি জড়িত হয়েছে শহরের একশ্রেণীর টাউট, ভূমিগ্রাসী মধ্যবিত্ত বনিক সম্প্রদায়, রাজনৌতিক নেতা, আমলা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিরা। এক সময যাদের জায়গা জমি ছিলো, সেই জমি ঘরবাড়ি সহ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় কিন্তু পরে যখন সেই জমি আবার নদী গর্ভ থেকে জেগে উঠে,শিখস্তি পয়স্তির জটিল আবর্তে পড়ে সেই জমি নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত হয়। মামলয় জড়িয়ে পড়ে বা মামলা করতে বাধ্য হয় হাজার হাজার ভূমির মালিক কিংবা তার ওয়ারিশগণ। সাগর আর নদী থেকে জেগে উঠা প্রায় সকল জমিই সরকারী এক নম্বর খতিয়ানে খাস জমি হিসাবে চিহ্নিত হয় । আবার নতুন ভূমি জেগে উঠার সাথে সাথে একশ্রেণীর ভূমিগ্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সে ভূমির উপর । নানান কুটকৌশলে দখল করে নেয় নতুন নতুন জেগে উঠা চর। জমি দখল নিয়ে হয় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ। এক অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে পড়ে উপকূল জুড়ে ।
 
 wmKw¯— cqw¯— wK? :- †e½j †i¸‡jkb A¨v± 1825 †_‡K Rvbv hvq, †Kv‡bv f~-m¤úwË b`x ev mvM‡i †f‡½ wejxb n‡q †M‡j Zv f~-m¤úwËi fvOb ev ÔwmKw¯—Õ wnmv‡e MY¨ nq| Ab¨w`‡K, †Kv‡bv f~-m¤úwË b`x ev mvM‡i wejxb nIqvi ci cybivq Ôc~e©¯’v‡bÕ †R‡M DV‡j Zv Ôcqw¯—Õ m¤úwË wn‡m‡e MY¨ nq| wKš‘ b`x ev mvM‡i ÔbZzbÕ †R‡M IVv Pi cÖPwjZ AvBbvbyhvqx ÔLvmRwgÕ wn‡m‡e miKv‡ii 1bs LwZqvbfy³ করা nq|
 
GjvKv cwiwPwZ:- †bvqvLvjx †M‡R‡Ui Z_¨ Abyhvqx ejv n‡q‡Q, e½cmvM‡ii †gvnbvq †bvqvLvjx †RjvwU GKwU e-Øxc wn‡m‡e cwiwPZ| †bvqvLvjxi Avw` bvg wQj fyjyqv| 1822 mv‡ji 29 gvP© fyjyqv ciMbvi Aax‡b GwU cËb nq| cÖv³Y ev‡KiMÄ ev ewikv‡ji m‡½ wQ‡jv Gi mshyw³| `w¶Y mvnevRcyiI ejv n‡Zv G‡K| Kzwgল্লার myavivg, †eMgMÄ, j²xcyi, ev‡KiM‡Äi `w¶Y mvnevRcyi I DcK~jxq AÂj Ges PÆMÖv‡gi nvwZqv I m›Øxc wb‡q GwU MwVZ n‡qwQj| Gi †Rjv m`i ¯’vwcZ nq †bvqvLvjx †gŠRvq|
1950-Gi `k‡K †bvqvLvjx kni m¤ú~Y© b`xM‡f© nvwi‡q †M‡j eZ©gvb gvBR`x †Kv‡U© Gi m`i `ßi ¯’vcb Kiv nq| cieZx©‡Z মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নদী সিকস্তিপুরাতন †Rjv m`iটি b`xগর্ভ থে Avevi cËb বা পয়স্তি nq| eZ©gv‡b সে cyivZb kniwU GKwU bZzb P‡ii †bvqvLvjx BDwbq‡bi GKwU †gŠRv| †hLv‡b এখন cÖvPxb kn‡ii wPýwUI †bB| 1984 m‡b †dbx I j²xcyi †Rjv MwVZ n‡j †bvqvLvjxi g‡a¨ ivLv nq QqwU _vbv, †m¸‡jv n‡jv- PvUwLj, †eMgMÄ, †mbevM, †Kv¤úvwbMÄ, nvwZqv I m`i| পরবর্তী কালে নোয়াখালী সদরকে ভেঙ্গে সুবর্ণচর ও বেগমগঞ্জকে ভেঙ্গে সোনাইমুড়ি উপজেলা নামে আলাদা দুটি উপজেলা গঠিত হয়cy‡iv †RjvwU 3 nvRvi 6 `kwgK 99 eM© wK‡jvwgUvi, Zvi g‡a¨ 8Õk 6 `kwgK 49 eM©wK‡jvwgUvi b`x Ges 5Õk 45 `kwgK 66 eM©wK‡jvwgUvi m„wRZ ebf~wg| †bvqvLvjx †Rjv 22.07 I 23.08 DËi A¶vsk Ges 90.53 I 91.27 `ªvwNgvs‡ki g‡a¨ Aew¯’Z|
অভিযোগ রয়েছে, †m‡Uj‡g›U Awdm Ges Rwic wefvM‡K wbqš¿Y Ki‡Q cÖfvekvjxiv
miKvwi Rwic wefv‡Mi weavb Av‡Q †KvRvqMvq KZUzKz Rwg †Kvb mg‡q †f‡½ †M‡Q wKsev †R‡M D‡V‡Q A_©vr wkKw¯— cqw¯— Rwic mve©¶wYK Kivi| w`qviv Rwic memgqB Pjvi K_v| wKš‘ bvbvb Kvi‡Y †bvqvLvjx‡Z Gi mwVK Z_¨ cvIqv hvq bv| †RvZ`vi f~wgMÖvmxiv GwU‡K c~Y©v½fv‡e wbqš¿Y Ki‡Q| GK mgq hv Lvmgnj wQ‡jv †mB KvMRcθ‡jv আর cvIqv hvq bv| প্রায় ক্ষেত্রে রেকর্ডরুমে রক্ষিতevjvg বইয়ের cvZv _v‡K bv wKsev wQu‡o †d‡j †`qv nq| সরকারি হেফাজত খানায় নিরাপদ এলাকায় evjvg eB‡qi cvZv †Quov n‡”Q, wKš‘ Gi Rb¨ Kv‡iv wei“‡× †Kv‡bv e¨e¯’vI †bqv n‡”Q bv| নদী থেকে †hLv‡bRwg জেগে DV‡Q †mLv‡bGK`j †RvZ`vi তার মৌরসী জমি বলে দাবি করেG msµvš— KvMRI ˆZwi Kiv n‡q hvq| Avevi G msµvš— ¯^v¶¨ AvB‡biI RwUjZv Av‡Q| AvB‡bi `ye©jZv wKsev AvB‡bi dvuK †dvKi cy•Lvbycy•Lfv‡e e¨envi Ki‡Q fywgMÖvmx cÖfvekvjxiv|
 
wmKw¯—র ঘোরটোপে বেহাত খাসজমি :- f~wgnxb‡`i gv‡S বন্দোe¯—K…Z LvmRwg AvB‡bi dvuK Mwj‡q wmKw¯— cqw¯— wn‡m‡e `L‡ji eû bwiR i‡q‡Q †bvqvLvjx A‡j| দেখা যায় কোনো এলাকায় বিশ পঁচিশ Rb ভূমিহীন GK ev †`o GKi K‡i Rwg e‡›`ve¯— পেলোতার কিছুদিন পর  kwiK GKRb সে জমি থেকে অদৃশ্য n‡q hvq| আরো কিছুদিন পর দেখা যায় f~wgnxbiv †KD†mLv‡b Avi Ae¯’vb Kরছেbv| বুঝা যায়, GB f~wgnxbivI _v‡K mvRv‡bv| কিছু ভাড়াটে ভূমিহীন জোতদারদের পক্ষে এ সাজানো নাটকটি করে থাকেঅন্যদিকে f~wgnxb‡`i LvmRwg e›U‡Yi †¶‡Î Keywjq‡Z kZ© _v‡K †h, GB m¤úwË n¯—vš—i Kiv hv‡e bv| কথিত ভূমিহীন m¤úwËUv e‡›`ve‡¯—i ciciB জোতদারদের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি K‡i দিয়ে hvb| f~wgMÖvmx cÖfvekvjxiv e‡›`ve¯—cÖv߇`i KvQ †_‡K Rwg †iwRwóªi bvg K‡i wKQz UvKv w`‡q জমি থেকে উচ্ছেদ করে †`q| cieZx©‡Z GB Rwg¸‡jv Rvj `wjj K‡i gvgjvi gva¨‡gমৌরসী Rwg A_©vr P‡i †R‡M IVv পূর্ব পুরুষদের cqw¯— Rwg wn‡m‡e `Lj নেqv nq| এতে নানা মুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়। এসমস্যাগুলি লাঘবের ক্ষেত্রে সরকার সময় সময় বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারী করে থাকে। ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রনালয়ের দিয়ারা/চর্চা প্রসঙ্গে, শাখা নং-২ নঙ ২-২/৮৭/৯০(১৯৬০) তারিখ ১৯ মাঘ, ১৩৯৩/২-২-৮৭ বিষয়:-নদী সিকস্তি জমি পয়স্তি হলে অথবা নতুন জেগে উঠা চরের বন্দোবস্ত পদ্ধতি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ,  সরকার গভীর উদ্বেগের সহিত লক্ষ করিতেছে যে, বিভিন্ন জেলায় নদী সিকস্তি জমি পয়স্তি হইবার পর সার্ভেয়ার /আমিন কতৃক প্রস্তুতকৃত এবং কানুনগো কতৃক সার্টিফিকেট প্রাপ্ত পুন:পুন: বদলকৃত চর্চাম্যপ দ্বারা খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার প্রেক্ষিতে আইন শৃঙ্খলা সমস্যার উদ্ভব হইতেছে। সুতরাং এই ধরনের ম্যাপ দ্বারা পয়স্তি জমি ও নতুন জাগিয়া উঠা চরের জমি বন্দোবস্ত দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করিতে হইবে। দিয়ারা সেটেলম্যান্ট দ্বারা প্রস্তুতকৃত ম্যাপ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পয়স্তি খাস জমি ও নতুন জাগিয়া উঠা চরের জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যাইবেনা। যখনই কোনো নতুন চর জাগিয়া উঠিবে তখনই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অবিলম্বে বেঙ্গল সার্ভে এবং সেটেলমেন্ট ম্যানুয়েল ১৯৩৫ এর ২৯৯ এবং ৩০০ ধারা অনুযায়ী উহা জরিপের জন্য মহা-পরিচালক ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিকট প্রস্তাব পেশ করিবেন এবং সেই প্রেক্ষিতে মহাপরিচালক বাৎসরিক জরিপ কর্মসূচি গ্রহণ করিবেন এবং যথাশীঘ্র এ জরিপ সম্পন্ন করা যায় জমি বন্দোবস্ত ততই সুগম হইবে। এতকাল উদ্ভুত বিভিন্ন সমস্যার পরিমান লাঘব পাইবে আশা করা যায়। ইহার ফলে নতুন জাগিয়া উঠা খাস জমি ভূমিহীন ও বিত্তহীনদের মাঝে বন্টনের ফলে আর্থসামাজিক সমস্যারও আংশিক লাঘব হইবে বলিয়া বিশ্বাস। এই নির্দেশ অমান্য করিলে দায়ী/ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে। এই নির্দেশ অবিলম্বে বলবৎ হইবে। আদেশক্রমে, কাজী সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম-সচীব। পরবর্তীতে ১২মে ১৯৯৭ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ স্বাক্ষরিত নীতিমালার ২৭.০ নং অনুচ্ছেদেও উল্লেখ রয়েছে ‌'নদী পয়োস্তি জমি ও চর ভূমির ক্ষেত্রে দিয়ারা জরিপ না হওয়া পর্যন্ত এই সকল জমি ভূমি ব্যাবস্থাপনা ম্যানুয়ালের বিধান অনুযায়ী ডিসিআর এর ভিত্তিতে একসনা ইজারা দেওয়া হইবে। এ ক্ষেত্রে ডিসিআর বা ডুব্লিকেট কার্বন রিসিপ্ট এর মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকদেজমি বরাদ্ধের কথা আছে।  খাসজমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে এ সকল নীতিমালা করা হয়েছে। বার বার হাত নকসায় বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে খাসজমি। সে কারনে আজ একই জমির ত্রিমূখী মালিকানা, বয়ার দাবী, ওয়াকফ ষ্টেট আইন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, অস্বচ্ছতা, বন্দোবস্তের দীর্ঘসূত্রিতা, চরাঞ্চলের আইন শৃঙ্খলার অবনতি, খুনখারাবি, রাহাজানী, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন আর হাজার হাজার মিথ্যা মামলার কারণ। এ সমস্যা নোয়াখালীর সমগ্র উপকূল জুড়ে বিস্তৃত। ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করে আসছে, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের রয়েছে খামখেয়ালী আর অদুরদর্শীতা।
 
উপকূলে খাসজমির পরিমান:- নোয়াখালীর উপকূল জুড়ে যে বিপুল খাসজমির ভান্ডার গড়ে উঠছে তার সঠিক তথ্য কখনো করা হয়নি। ভূমির একদিক নদী থেকে জেগে উঠলে অন্যদিকে তা আবার ভেঙ্গে যায়। ভূমির এক অংশ ভাঙ্গলে গড়ে উঠে অন্য অংশ। তবে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, ভাঙ্গাগড়ার মহাযজ্ঞে জমির পরিমান দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত পঞ্চাশ বছরে নোয়াখালীর দক্ষিণাংশে সমুদ্র থেকে প্রায় ২শ৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি জেলার মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে। বন বিভাগ নতুন জেগে উঠা চর আবাদী করে গড়ে তোলার জন্য বিশ বছরের চুক্তিতে বনায়ন করছে। সে হিসাবে তাদের কাছে রয়েছে ২লক্ষ ৩২হাজার ১শত ৫০দশমিক শূন্য ৬ একর জমি। এর মধ্যে নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচরে রয়েছে ৯৭হাজার ৩২দশমিক ৫৯একর জমি। কোম্পানীগঞ্জে ১২হাজার ২শত ৩২ দশমিক ৬৫একর, হাতিয়ায় ১লক্ষ ২২হাজার ৮শত ১৮দশমিক ৬৫ একর ভূমি।
 
ভূমি প্রাপ্তিতে দালালের উৎপা:- ভূমিহীনদের অজ্ঞতা অমলাতান্ত্রিক জটিলতা দালালদের উৎপাত প্রতারণা ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তন এবং ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে ভূমি বন্দোবস্তে দূর্নীতি বিস্তার লাভ করছে। এখানে টাকাই হয়ে উঠছে ভূমি বন্দোবস্ত পাওয়ার প্রধান মাধ্যম। মাঠ পর্যায় থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বিরাজ করছে । যে পরিবারে বসত বাড়ি ও কৃষি জমি নেই কিন্তু পরিবারটি কৃষি নির্ভর তাকেই ভূমিহীন আখ্যা দেয়া হয়েছে । একজন ভূমিহীনের সরকারী খাস জমি পাওয়ার জন্য আবেদন পত্র হতে শুরু করে রেজিষ্ট্রি পর্যন্ত ধাপগুলো সম্পর্কে কোনো আভিজ্ঞতা নেই এবং সরকারী ফি কত তাও তাদের জানা নেই। এই নিরক্ষর অনভিজ্ঞ ভূমিহীনদের দ্বারস্ত হতে হয় স্থানীয় দালাল, টাউট, তহশীল ও ভূমি অফিসের একশ্রেণীর কর্মচারীদের উপর। এখান থেকেই ভূমিহীনদের হয়রানি শুরু হয়। এক খন্ড জমি পেতে হলে ভূমিহীনদের বহু ত্যগ ও কষ্ট সহ্য করতে হয় । অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর । বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিয়েই কাজ শেষ হয়না, চেয়ারম্যন সার্টিফিকেট নেয়া, আবেদন পত্র সংগ্রহ, ছবি তোলা যাতায়ত সহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভূমিহীনদের অর্থ ব্যয় করতে হয়। ভূমিহীনদের ভূমি প্রাপ্তির জন্য প্রথমেই ভূমি অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয। এই আবেদন পত্র সংগ্রহ করা থেকে শুরু হয় ভূমিহীনদের ভোগান্তি। ভূমি অফিস তথা ভূমি মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত আবেদন পত্রের ফরম সরবরাহ করেনা। এ কারনে দুই টাকার আবেদন পত্র সংগ্রহ করতে খরচ হয় বিশ টাকা থেকে ত্রিশ টাকা । আনেক ক্ষেত্রে আরো অনেক বেশী খরচ হয় বলে ভূক্তভোগী ভূমিহীনরা অভিযোগ করেছে। এরা আরো অভিযোগ করে ভূমি অফিস আবেদন পত্র আহ্বান করার পর পরই এলাকা ভিত্তিক দালাল ফড়িয়া চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। যথা সময়ে আবেদন করতে না পারার কারনে অনেক ভূমিহীন খাস জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভূমিহীনরা প্রথমে ২২ কলামের একটি আবেদন পত্রে আবেদন করতে বলা হয় , কিন্তু প্রাথমিক বাছাইয়ের পর আবার ১৬ কলামের আর একটি আবেদন পত্র পূরণকরতে বলা হয়। এ এলাকার ভূমিহীনরা প্রায় নিরক্ষর তাদের পক্ষে এটি একেবারেই দুরুহ কাজ। কিন্তু এ বিষয়ে কখনো কোনো প্রচারনা চালানো হয়নি। ভূমি অফিস জানায়, নতুন নীতিমালায় ১৬ কলামের একটি ফরমপূরণ করার নিয়ম সম্প্রতি চালু হয়েছে। ভূক্ত ভোগী ভূমিহীনরা জানা খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য ভুমি অফিসে প্রায় ২০টি টেবিল ঘুরতে হয়। প্রায় সব টেবিলে কিছু না কিছু উপরি বা ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয়না। অফিসের এক শ্রেণীর দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একই জমি একাধিক ব্যাক্তির নামে বন্দোবস্ত দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভূমিহীন কৃষকেরা জানান, জমি বন্দোবস্তের জন্য যারা টাকা দিয়েছতাদের নথি অনুমোদন হয় ঠিকই কিন্তু আবার সেই নথির জমি বেশী টাকার বিনিময়ে অন্যদেরকে দিয়ে দেয়ার নজির রয়েছে। নোয়াখালীর বিভিন্ন তহশীলে নেক ভূমিহীন পরিবার খাস জমির জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনদের সংখ্যা সে তুলনায় অত্যন্ত কম।
 
 
(কেস স্টাডি -৩)
ভূমিহীন মাহফুজার ভোগান্তি:- নোয়াখালীর চরের এক শ্রেণীর দালাল চক্র অসহায় দরিদ্র ভূমিহীনদের কাছ থেকে তাদের শেষ সম্বল টুকু হাতিযে নেয় জমি দেয়ার কথা বলে। তারা ভূমি অফিসে তদ্বির ও দুর্নীতির মাধ্যমে জমি পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করে । তবে এ জন্য তারা শর্তও জুড়ে দেয় । কোনো কোনো ভূমিহীনদের সাথে চুক্তি হয় যদি তারা জমি পাইয়ে দিতে পারে তাহলে তাদেরকে বেনামে অর্ধেক জমি দিয়ে দিতে হবে। অসহায় ভূমিহীনরা একটুখানি জমি পাওয়ার আশায় সব শর্ত মেনে নেয়। ভুমিহীন মাহফুজা খাতুন(৪৫) এরকম এক চক্রে পড়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তিনি জানান, এক সময় তাদের হাতিয়ায় জায়গা জমি ছিলো। বেশ কয়েক বছর আগে নদীতে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে গেলে নানান যায়গা ঘুরে ছয় সাত বছর আগে চর মিজদের আচকা কলোনীতে এসে ওয়াপদার বেড়ির পাশে একটি ঝুপরি ঘর তুলে বসবাস করছে। স্বামি আবু তাহের(৫০) কৃষি কাজ করতেন এখন পঙ্গু অবস্থায় ঘরে বসে আছেন । কোনো কাজ করতে পারেনা। বাহিনীর লোক বলে পরিচিত এক লিটন নামের দালাল জমি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দুই হাজার ছয় শত টাকা নিয়েছে। এর পরেও সে আরও টাকা দাবি করে। আর টাকা দিতে না পারাতে লিটন জমিও দেয়নি, আগের টাকাও আর ফিরত দেয়নি। কিভাবে কোথায় গেলে সরকারি জমি পাওয়া যাবে মাহ্‌ফুজা খাতুন এর কিছুই জানেননা। কি ভাবে সরকারী খাস জমি পেতে হয় এবিষয়েও তাঁর কোনো ধারনা নেই।
মাহফুজা খাতুন(৪৫) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের আবু মাঝি জমি বন্দোবস্তের জন্য ২০ টাকা করে নিয়েছে। এরপর আরো ৫০০ টাকা দেয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করে। তিনি আর দেননি। মাহফুজা খাতুন জানান অনেকেই টাকা দিয়েছেন, কিন্তু জমি পাননি। যারা বেশী বেশী টাকা দিয়েছেন তারা কেউ কেউ জমি পেয়েছেন। তবে আবার অনেকে কাগজ পত্র পেয়েও জমি দখলে পাননি। তিনি জানান, জমি পেতে কোথায় কত টাকা লাগে বা কি কি করতে হয় তা তিনি জানেননা।
 
রক্তে রাঙা খাসজমি: জেলার বিভিন্ন চরে জনবসতি গড়ে উঠার শুরু হতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় জোতদাররা চরের নিয়ন্ত্রন করে আসছে বলে স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই সব নিয়ন্ত্রকদের রাজনৈতিক পরিচয়ও পরিবর্তন হয়ে যায়। চরের অধিকাংশ মানুষ নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো দরিদ্র পীড়িত অসহায় জীবন যাপন করে। সরকারের ভূমি সংস্কার কর্মসূচীতে অধিকাংশ ভূমিহীন অন্তর্ভূক্ত। তাদের শতকরা ২০ ভাগও সরকারী খাস জমিতে পুনর্বাসিত হয়নি। সরকার কর্তৃক বরাদ্ধকৃত খাসজমির বন্দোবস্ত পেয়েও অনেক ভূমিহীন সে জমির দখল বুঝে পায়নি।অন্যদিকে প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় চরের পর চর দখল করেই চলছে । ওয়ারিশ সূত্রে মালিক অর্থাৎ বয়ার দাবি করেভূয়া দলিল দেখিয়ে  প্রতিনিয়ত তারা ভূমি গ্রাসের অপ:তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নদী বা সাগর গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া ভূমি সরকারের খাস খতিয়ান ভূক্ত জমি বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু ১৯৯৪ সালে প্রজাসত্ব আইনের একটি সংশোধনী পাশ করে এ নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।এ আইনে বলা হয়েছে কারো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জমি নদীতে ভেঙ্গে গেলেও ৩০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হলে সে তা ফিরে পাবে । একটি বাম আন্দোলনের নেতা ও সমাজকর্মী দলিলের রহমান দুলাল অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহল ও জোতদাররা আইনের এই সংস্কার কাজে লাগিয়ে বয়ার দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে ভূমিহীনরা বয়ার দাবি প্রতিরোধে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন। এনিয়ে প্রতিনিয়ত এখানে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ লেগে আছে। চরবাসি জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ চর গুলোতে শত শত নারী পুরুষ ও শিশু জোতদারদের হাতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে ভাটিরটেকে। আশির দশকে বিভিন্ন যায়গা থেকে কয়েকশ পরিবার ভাটিরটেকে নতুন জেগে উঠা চরে মাথা গুঁজার জন্য আশ্রয় নিয়েছিলো। তারা খাস জমিতে বস্তি তুলে নতুন জমি আবাদী করতে শুরু করে। কিন্তু তখন স্থানীয় প্রভাবশালী জোৎদারদের লাঠিয়াল বাহিনী রাতের অন্ধকারে নিরিহ নি:স্ব ভূমিহীনদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাতর আঁধারে নৃশংসভাবে হত্যা করে অনেক নারী পুরুষ ও শিশু। জ্বালিয়ে দেয় ভুমিহীনদের বস্তিগুলো। সে ঘটনায় তখন পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে। সে মামলায় কয়জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। সে সময়ের সে  ঘটনা ভাটিরটেকের হত্যাকান্ড বলে এখনো অনেকের মনে ভয়াল স্মৃতি হয়ে বিরাজ করছে। স্থানীয় লোকমুখে সে এলাকাটি এখন পোড়াভিটা হিসাবে পরিচিত।
 
তথ্য কেন্দ্র: গ্রামাঞ্চলে তথ্য নিয়ে কাজ করে এরকম একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ নেটওয়ার্ক বা ডি-নেট‍‍‍ ২০০৫ সনে নোয়াখালীর চর বাটায়পল্লীতথ্য নামে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে। এখানে এসে গ্রামের বিভিন্ন মানুষ নানান রকম তথ্য পেয়ে থাকে। এখানকার অফিস ম্যনেজার মো: কামাল উদ্দিন জানান সরকারী উদ্দ্যোগে কোনো প্রকারের কোনো তথ্য এখানে এসে কেউ জানায়নি। বা এ কেন্দ্র থেকে তাদের কোনো তথ্য কখনো কাউকে জানাতেও বলেনি।  এখানে যা তথ্যআছে তা সবই সংস্থার নিজস্ব। এখানে জীয়ন তথ্য ভান্ডার নামে তথ্য সেবার ব্যাবস্থাও রয়েছে। গ্রামের মানুষ এখানে এসে তথ্য পেয়ে অনেক লাভবান হচ্ছেতিনি জানান, ভূমিহীনদের ভূমি প্রাপ্তির জন্য কোনো তথ্য পেতে আসতে দেখা যায়না। এ ব্যপারে তাদের কোনো সচেতনতাও নেই। এ বিষয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগও দেখা যায়না। গত আড়াই বছরে শতাধিক মানুষ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নিয়েছেন কিন্তু এ কেন্দ্র থেকে খাস জমি পেতে তথ্যের জন্য তেমন লোকজন আসেনি। এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়েছে মাত্র ২৫জন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আনেক সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তা চান না ভূমি পাওয়ার  সঠিক তথ্য ভূমিহীনরা পেয়ে যাক। তবে তিনি জানান কেউ এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানতে চাইলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দিয়ে থাকেন। তিনি জানান, অনেক ভূমিহীন জমির জন্য ঘুরেঘুরে ত্যাক্তবিরক্ত হয়ে শেষে আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন মূলত: দুর্নীতিই এর মূল কারণ। কোথাও টাকা ছাড়া কিছু হয়না। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, জমি নামজারি বা জমাখারিজ করেতে সরকারি খরচ মাত্র সাড়ে সাঁইত্রিশটাকা সে যায়গায় খরচ হয় তিন থেকে সাড়েতিন হাজার টাকা বা কখনো কখনো তার চেয়ে বেশী টাকা লাগে। যায়গায় যায়গায় গরীব ভূমিহীনরা এসব হয়রানি সহ্য করে সকল উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
এ কেন্দ্রে ভূমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রচারিত একটি পোষ্টার টাঙ্গানো রয়েছে। কিন্তু আর কোথাও এরকম পোষ্টার পরিলক্ষিত হয়নি। শিবচরণ গ্রামের ভূমিহীন লক্ষীরাণী দাস(২৫) জানান তিনি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। এলাকার  বিভিন্ন ক্ষেত খমারে বদলা দিয়ে কোনো রকমে আয় উপার্জন করেন। তিনি জানান কিছুটা পড়ালেখা জানলেও খাস জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত কোনো তথ্য তিনি জানেননা। নানা জনের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তিনি জানান নোয়াখালীর চরে অনেক খাস জমি পড়ে রয়েছে, আনেকেই সেগুলো দখল করে আছে মেয়েমানুষ হিসাবে তিনি সে যায়গায় পৌঁছতে পারেননা।
ডানিডার অর্থায়নে মাটিকাটা ও রাস্তার কাজের টেকনিকেল সুভারবাইজার নুরুল ইসলাম জানান এলাকার মাটি ও রাস্তার কাজের জন্য ভূমিহীন, স্বামী পরিত্যক্তা, ভিক্ষুক, বিধবা এদেরকে নিয়ে গ্রুপ করে কাজ দিয়ে থাকেন। গ্রুপ করার পর এদেরকে একটি ট্রেনিং দিয়ে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়। এরা কেউই লেখাপড়া যানেননা। কেউ কেউ নামটি কোনো রকমে স্বাক্ষর করতে পারেন মাত্র। তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাঁর কাছে নাই। জমি পাওয়ার ব্যপারে তাঁদের কিছু করারও নেই। 


 
কৃষি খাসজমি ও প্রাপ্তির নিয়মাবলী (ভূমি)
কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত নিয়মাবলী সরকারি উদ্দোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার লাগানো হয়েছে। তবে এ পোষ্টারের ভাষা কখনো ভূমিহীনদের কাছে পৌঁছেনা। পোষ্টারে লেখা আছে:-
 
কৃষি খাসজমি ও প্রাপ্তির নিয়মাবলী (ভূমি)
কৃষি খাসজমি ব্যাবস্থপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সকল মেট্রোপলিটন সকল পৌর এলাকা এবং সকল জেলা/ উপজেলা সদর এলাকা ভুক্ত সকল প্রকার জমি ব্যাতিত এর বাহিরে অবস্থিত কৃষিযোগ্য সকল খাস জমিই কৃষি খাসজমি হিসেবে বিবেচিত। কৃষি খাসজমি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়।
 
ভূমিহীন পরিবার ঃ
যে পরিবারের বসতবাড়ী ও কৃষিজমি কিছুই নাই, কিন্তু পরিবারটি কৃষি নির্ভর।
 
 কৃষি খাসজমি প্রাপ্তিতে ভূমিহীন পরিবারের অগ্রাধিকার তালিকাঃ
ক) দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
খ) নদী ভাঙ্গা পরিবার।(যার সকল জমি বিলীন হয়েছে)
গ) সক্ষম পুত্র সহ বিধাব বা স্বামী পরিত্যক্ত পরিবার।
ঘ) কৃষি জমিহীন ও বাস্তুভিটাহীন পরিবার।
ঙ) অধিগ্রহনের ফলে ভূমিহীন হয়ে পড়েছে এমন পরিবার।
চ) ১০ শতাংশ বসত বাড়ী আছে কিন্তু কৃষি জমি নেই, এরুপ কৃষি নির্ভর পরিবার।
 
     উপজেলা কৃষি খাসজমি ব্যবস্থপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির কার্যপরিধিঃ
১) স্ব স্ব উপজেলায় কৃষি খাসজমি চিহ্নত করণ ও উদ্ধারকরণ।
২) উদ্ধারকৃত খাস জমি প্রদানের জন্য প্লটে বিভক্তি করণ।
৩) কৃষি খাস জমি বরাদ্দ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রচার করা।
৪) ভূমিহীনদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান এবং সরকারি কমিশনা ( ভূমি) এর মাধ্যমে দরখাস্তগ্রহণ।
৫) প্রাপ্ত দরখাস্ত বাছাই ও নীতিমালা অনুযায়ী তালিকা প্রণয়ন ।
৬) নির্বাচিত ভূমিহীনদের মধ্যে বরাদ্ধ দেয়ার সুপারিশ প্রদান।
৭) বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ভুমিহীনদের দখল নিশ্চিত করণ।
৮) বন্দোবস্ত পরবর্তী তদারকি করা এবং বন্দোবস্ত গ্রহীতা বন্দোবস্তের শর্তাবলী পালন না করলে তার          বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৯) সরকার কতৃক আন্যান্য দায়িত্ব প্রতিপালন।
এ বিষয়েবিস্তারিত তথ্যের জন্য নিজ নিজ এলাকার উপজেলা নির্বাহী আফিসার, সহকারী কমিশনার(ভূমি) অথবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং কোনো অভিযোগ থকলে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসককে অথবা সরাসরি লিখিত ভাবে ভুমি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

 
উপসংহার:-  নোয়াখালীর দক্ষিনাংশে সাগর থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভূমি জেগে উঠছে। অথচ সে ভূমির সঠিক ব্যবহার কখনো করা হয়নি। এদিকে আশংকাজনক ভাবে ভূমিহীনদের সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কোন এলাকায় কত জমি আছে তার সঠিক তথ্য ভূমিহীনদের কাছে কখনো পৌঁছায়না। আর সে জমি গুলো নানান কায়দায় নানান ছল চাতুরিতে চলে যায় ভূমিগ্রাসীদের কব্জায়। ভূমি নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে খাসজমি পাওয়ার অগ্রাধিকার রয়েছে একমাত্র ভূমিহীনদের। অথচ অসহায় নিরক্ষর ভূমিহীনরা এর সুফল ভোগ করতে পারছেনা। আবার এদের রক্ত ঘামে আমাদের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি সচল রয়েছে। জাতী হিসাবে সর্বাঙ্গীন ভাবে আমরা অনেক পিছে পড়ে রয়েছি। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ভূমিহীন। দেশের অর্ধেক জনগণকে বাদ দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধির কথা ভাবাবাতুলতা মাত্র। ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য ভূমিহীনদের জানানো সরকারের গুরু দায়িত্ব। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ভূমিহীনদের কাছে সঠিক ভাবে খাসজমি বন্দোবস্ত দিতে পারলে কৃষি প্রধান এদেশের সামগ্রীক অর্থনীতির রুপ পরিবর্তন হয়ে যাবেতা আর কাউকে বলার অপেক্ষা রাখেনা।  
 
 
মাহমুদুল হক ফয়েজ
ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক            
মোবাইল: ০১৭১১২২৩৩৯৯
e-mail: mhfoez@gmail.com
Mahmudul Huq Foez
 
Advertisement
 
আপনজন
 
ভালোবাসার একটি গোলাপ
সাতরাজারই ধন,
কোথায় খুঁজিস ওরে ক্ষেপা
এইতো আপন জন।
নীরবতা
 
নীরবে কেটেছে দিবস আমার
নীরবে কেটেছে রাত,
নীরবে হেনেছে হৃদয় আমার
প্রণয়ের অভিসম্পাত।
রঙ
 
রঙ দেখেছো রঙ ?
শাওন রাতের
নিকষ কালো
অন্ধকারের রঙ !
রঙ দেখেছো রঙ !
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
 
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। নোয়াখালী সদরের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই চর এলাকা। এখানে বাস করে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অধিকাংশই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাছাড়াও দিনমজুর, রিক্সাশ্রমিক, জেলে প্রভৃতি পেশার মানুষ এখানে বাস করে। খুব কমসংখ্যক নারি কৃষি সহ বিভিন্ন কাজ করলেও তারা মূলত ঘরকন্যার কাজ করে থাকে। ঘর কেন্দ্রিক নানান কাজের সঙ্গেও এরা জড়িত। এইসব নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার হার খুব কম। জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতাও এদের তেমন নেই। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এরা বেশীরভাগ সময়ে সনাতন জ্ঞান, নিজস্ব ধারনা এবং আকাশের হাবভাব দেখে বুঝতে চেষ্টা করে। প্রায় ক্ষেত্রে এরা নিয়তির উপর নিজেদেরকে সমর্পন করে থাকে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের ঝড় জলোচ্ছাস ও সাম্প্রতিক সিডরের কারনে এদের ভিতর কিছুটা সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের অধিকাংশের বাড়িতে রেডিও কিংবা টেলিভিশন নেই। তবে তারা স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে রেডিও টেলিভিশন থেকে খবরাখবর পেয়ে থাকে।
গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে অনেক গুলো বড় বড় ঝড় জলোচ্ছাস গর্কী সহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে গিয়েছিলো। সে দুর্যোগ গুলোতে প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ‘৫৮.’৬০, ও ‘৭০ এর জলোচ্ছাস এ অঞ্চলে ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। সে সময় এখানকার মানুষ কোনো মাধ্যম থেকে কেনো সংবাদই পেতোনা। সে সময়ের সরকার গুলোও ছিলো এব্যপারে একেবারেই উদাসীন।
নোয়াখালী সদরের সর্বদক্ষিনে হাতিয়া ষ্টিমার ঘাট ও অতিসম্প্রতি বয়ার চরের সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলে ফেরী চলাচলের জন্য চেয়ারম্যান ঘাট নামক স্থানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌপরিবহন সংস্থার একটি পল্টুন স্থাপিত হয়েছে । এখানে হাতিয়া দ্বীপ ও নোয়াখালীর মূল ভূখন্ডের মধ্যে ফেরি যোগাযোগ রয়েছে । এ এলাকায় মেঘনার মোহনায় প্রচুর সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার ও ছোটছোট জেলে নৌকা এসে ভীড়ে থাকে । এই ফেরীঘাটের সুবাদে এখানে একটি জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। এখানের অনেক জেলে জানিয়েছেন, তাদের অনেকেরই নিজস্ব কোনো রেডিও নেই। যারা চরের কাছাকাছি থেকে সাধারনত: মাছ ধরে থাকে। ছোট নৌকা নিয়ে তারা কখনো গভীর সমুদ্রে যায় না। কখনো কোনো দুর্যোগ দেখলে নদীর হাবভাব বুঝে সাবধানতা অবলম্বন করে। সারাদিন মাছ ধরা শেষে রাতে তারা চেয়ারম্যান ঘাটে কিংবা হাতিয়া ষ্টিমার ঘাটে আসলে লোকমুখে বিভিন্ন সংবাদ পেয়ে থাকে। নদীর কূলের এ বাজার গুলোতে এখন রেডিও তেমন শুনা হয়না। চা দোকান গুলোতে টেলিভিশন আছে । তাই সেখানে কাষ্টমারের ভীড় লেগে থাকে। যে দোকানে টেলিভিশন নেই সে দোকানে লোকজন তেমন যায় না। এসব দোকান গুলোতে বেশীর ভাগ সময় নাটক ও সিনেমা বেশী দেখা হয়। তবে দুর্যোগকালীন সময় সংবাদ বেশী দেখা হয়। এলাকার মানুষদের বদ্ধমূল ধারনা জন্মেছে যে, রেডিও টেলিভিশনে জাতীয় সংবাদ ছাড়া স্থানীয় সংবাদ প্রচারিত হয়না। তাই তারা খুব প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্থানীয় সংবাদ গুলো লোকমারফত পেয়ে থাকে। তবে তা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয়না। দুর্গম অঞ্চলের অনেক মানুষ জানিয়েছেন গত সিডরের সময় তারা লোকমুখে সংবাদ পেয়েছিলেন। সাগরের অবস্থা দেখে তারা সাগর থেকে ডাঙ্গায় চলে এসেছেন, তবে অনেকে উপরে সাগরের কাছাকাছি নিজেদের ঘরেই ছিলেন। অনেকেই নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি।
জরিপের বিশ্লেষন: কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content) সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ কার্য চালানোর সময় জানা গেছে, এরকম একটি সম্প্রচার কেন্দ্র সন্মন্ধে অনেকেরই ধারনা খুবই অস্পস্ট। এব্যপারে অনেকের কোনো রকম কোনো ধারনাই নেই। তবে বিষয়টি বুঝার পরে সবার মধ্যেই প্রচুর আগ্রহের সৃষ্টি হয়। তারা সকলেই মত দেন যে এরকম একটি কেন্দ্র এলাকায় খুবই প্রয়োজন।
নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলের কয়েকটি এলাকায় মোট ২০জনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। এখানে মাত্র দুজনের রেডিও এবং মাত্র এক জনের নিজস্ব একটি ছোট্ট টেলিভিশন ও রেডিও রয়েছে। তাদের অবশ্য খবর তেমন শুনা হয়না। রেডিওতে গান এবং টেলিভিশনে নাটক দেখা ও গানশুনা বেশী হয়। নারিদের শুধু নাটক ও গানই শোনা হয়। তবে পুরুষরা মাঝে মাঝে খবর শুনে থাকে। নারিদের মধ্যে খবর শুনার আগ্রহ খুব কম। গত সিডরের সময় পুরুষরা ১০০ শতাংশই রেডিও কিংবা টেলিভিশনে খবর পেয়েছেন কিন্তু ১০০ শতাংশ নারি বলেছেন তারা তাদের স্বামী কিংবা লোকমারফত খবর পেয়েছেন। ৮০শতাংশ বলেছেন তারা ঝড়ের পূর্বাভাষ পেয়ে নিজেদের জায়গায়ই অবস্থান করেন। এর কারণ হিসাবে তাঁরা বলেন বাড়ির নিরাপত্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। যেমন সেখানে কোথাও পানি বা বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। এ নিয়ে বিশেষ করে মেয়েদের খুবই অসুবিধা পড়তে হয়। তাই অনেকেই সেখানে যেতে তেমন আগ্রহী হয়না। নিয়তির উপরও তারা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১০০ শতাংশ বলেছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়কালে তাঁরা আবহাওয়ার সংবাদ শুনতে চান। ১০০ শতাংশ বলেছেন তাদের অনুষ্ঠান দেখতে সবচেয়ে বেশী আগ্রহ নাটকের প্রতি । তবে বাংলা সিনেমার প্রতিও তাদের আগ্রহ রয়েছে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন, কমিউনিটি রেডিও স্থাপিত হলে শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা দেয়া উচিত। অন্য ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন শাসন না করলে শিশুদের পড়াশুনা হয়না। তবে তারা এও জানিয়েছেন এর মাত্রা যেন অতিরিক্ত না হয়। এ বিষয়ে শিশুদের উপযোগী অনুষ্ঠান প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা জানিয়েছেন। ১০০ শতাংশ জানিয়েছেন বয়ো:সন্ধিকালীন সময়ে মেয়েদের সমস্যা বিষয়ক সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান বিশেষ ভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। সবাই মনে করেন এ ব্যপারে মেয়েরা এমন কি অভিভাবকরাও এ বিষয়ে তেমন সচেতন নন। এ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন। এথেকে মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ে ১০০শতাংশ জানিয়েছেন মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারন রোগবালাই, ডায়রিয়া, খাদ্যে পুষ্টিমান, টিকা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা মুলক অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। তবে মাত্র এক জন এইড্‌স বিষয়ে অনুষ্ঠান করার কথা জানিয়েছেন। বাসস্থান বিষয়ে ৭৫শতাংশ জানিয়েছেন, ভূমি ও ভূমির অধিকার বিষয়ে নানান অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। অবশ্য এ ব্যপারে পুরুষরাই বেশী আগ্রহী। নোয়াখালীতে তাঁত শিল্পের তেমন কোনো প্রসার নেই। এবিষয়ে কারো তেমন কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে ১০০শতাংশই হস্তশিল্প ও নারিদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করার কথা বলেছেন। একজন মন্তব্য করেন এক সময় নোয়াখালীতে প্রচুর তাঁতের প্রসার ছিলো । কিন্তু কালের গর্ভে তা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানে স্থানে যুগীপাড়া ছিলো। সেখানে লুঙ্গি গামছা শাড়ি এসব স্থানীয় ভাবে তৈরী হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এগুলো বাইরের জেলা গুলোতে চালান হতো। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে পারলে সেগুলো হয়তো আবার চালু হবে। আশা করা যায় এ থেকে তখন হয়তো এ এলাকার অনেক উন্নতি সাধিত হবে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন কৃষিঋণ, সার, বীজ, উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ, হাঁস মুরগি পালন, কীটনাশক ছাড়া সব্জী চাষ, খাদ্যে পুষ্টিমান ইত্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা প্রয়োজন।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যম হওয়া উচিত নাটক, কথিকা, জীবন্তিকা ইত্যাদির মাধ্যমে। এরা আরো জানিয়েছেন স্থানীয় ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে সবার কাছে তা গ্রহনযোগ্য হবে। এছাড়াও স্থানীয় ভাষায় নাটক, গান এবং স্থানীয় সমস্যা ও সমাধান ইত্যাদি বেশী বেশী প্রচার হওয়া দরকার বলে সবাই জানিয়েছেন।
উপসংহার:- সার্বিক জরিপে দেখা যায় এ এলাকার জন্য কমিউনিটি রেডিওর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দুর্গম এ অঞ্চলের মানুষ কাছের খবরটিও সঠিক ভাবে পায়না। কথায় কথায এলাকাবাসী জানায়, ‘‍ইরােক েবামায় মানুষ মরার খবর আমরা সাথে সাথে রেডিও টেলিভিশনে পাই কিন্তু পাশের গ্রামে মড়ক লেগে হাঁসমুরগী মারা গেলে আমরা তার খবর পাইনা‍ অথচ এটি আমাদের জন্য অধিকতর জরুরী’। এখানে এটি স্থাপিত হলে শুধু দুর্যোগকালীন সময়েই নয়, এ কেন্দ্র গ্রামীণ জনগণের সার্বক্ষনিক দিনযাপনের অনুসঙ্গ হয়ে থাকেব। স্থানীয় ভাষায় স্থানীয় আঙ্গিকে স্থানীয় সমস্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে এটি জনগনের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং অধিক গ্রহনযোগ্যতা পাবে। এলাকায় সচেতনতা বাড়বে। উপকৃত হবে প্রান্তিক মানুষ।

মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক
মোবাইল: ০১৭১১২২৩৩৯৯
e-mail: mhfoez@gmail.com

Mail to : massline@bangla.net
masslinemediacenter@yahoo.com



 

=> Do you also want a homepage for free? Then click here! <=
সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত