রৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রোদ্রবৃষ্টি
   
 
  চিংড়ি ঘের

নোয়াখালীর উপকূলীয় খাসজমির জটিলতা-৬



খাস জমিতে চিংড়ি ঘের
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ

উপকূলের মোহনা থেকে জেগে উঠা বিশাল ভূ-খন্ডের খাস জমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত পাওয়ার কথা। সুধারাম কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়ায়, রামগতি লক্ষ্মীপুরে নদী ভাঙার ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত ভূমিহীন হচ্ছে। ধারণা করা হয় উপকূলীয় প্রায় অর্ধেক মানুষই ভূমিহীন। এদের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। বাংলাদেশের ভূমি আইনে খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ায় প্রথম অগ্রাধিকার নিঃস্ব ভূমিহীনদের। অথচ সরকারি খাসজমি ভূমিগ্রাসী বিত্তবান প্রভাবশালী মহল করায়ত্ত করে নিচ্ছে। জোর জবরদস্তি, লাঠিয়াল মস্তান সন্ত্রাসী দিয়ে খাস জমিগুলো দখল করে নিচ্ছে কতিপয় ভূমিগ্রাসী। এর সর্বশেষ সংযোজন নোয়াখালীর উপকুলীয় চিংড়ি ঘের ঘোষণা। সম্প্রতি নোয়াখালী উপকূলে সরকারিভাবে চিংড়ি ঘের ঘোষণা করা হয়েছে। তার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানান সামাজিক সমস্যা।
নোয়াখালী উপকূলীয় নদী মোহনায় প্রাকৃতিকভাবেই পাওয়া যায় প্রচুর চিংড়ি। চিংড়ি চাষের অর্থনৈতিক দিকটাকেই শুধু প্রাধান্য দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে চিংড়ি ঘের। চিংড়ি চাষের ফলে উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, অর্থনীতি, কৃষি স্বাস্থ্য, নারী ও শিশুর জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে সেদিকে সরকারের কোনো লক্ষ্য নেই। ইতিমধ্যে বহু ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে মানবাধিকার, বিঘ্নিত হয়েছে পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র্যের। গত কয়েক বছরে চিংড়ি ঘের নির্মাণের  নামে বনবিভাগের হাজার হাজার বন কেটে উজার করা হয়েছে। ভূমিহীনদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণ, হত্যা খুন অপহরণ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। এর অন্তরালে রয়েছ ভূমিহীন অর্থলোভী প্রতিপত্তিশালী কিছু লোক।

জাল ছেঁড়া নদী দখল
নোয়াখালীর দক্ষিণে সুধারামে জালছেঁড়া নদী দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করার পাঁয়তারা করা হয়েছে। জালছেঁড়া নদী নোয়াখালীর ৬টি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত।  এগুলো ওয়াপদা, চরকার্ক, চর আমানুল্লাহ, চরজুবলী নোয়াখালী ও চরজব্বার। জেলা সদর সুধারাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ক্ষীণস্রোতা এই নদীটিকে নোয়াখালী খালও বলা হয়। স্থানীয় মানুষরা বলে জালছেঁড়া। বর্ষার তীব্র স্রোত জেলেদের পাতা জাল ছিঁড়ে নিয়ে যেতে বলে স্থানীয়রা এর নাম রেখেছিল ‘জালছেঁড়া’। নোয়াখালী শহরসহ সমগ্র জেলার পানি এই জালছেঁড়া নদী গড়িয়ে মেঘনার মোহনায় গিয়ে পড়ে। জেলার সমস্ত জল নিষ্কাশণের অন্যতম পথ বলে নোয়াখালীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণও এই নদী। ‘জালছেড়া’ নদীর চরকার্ক, চর ধানের শীষ ও চর বৈশাখী ভাগ্যহীন ভূমিহীনদের বসবাস। এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি এই জালছেঁড়া নদীকে গ্রাস করে বানাতে চেয়েছে চিংড়ি ঘের। তারা বাধ দিয়ে স্রোতম্বিনী নদীকে জলাশয়ে পরিণত করতে গিয়ে নদীর প্রবাহকে পরিবর্তন করে গভীর জোরা বা নালা কেটে ভূমিহীন কৃষকের চাষের জমিকে ঠেলে দিয়েছে। জমিতে জলাবদ্ধতায় চরবৈশাখী আর চর ধানের শীষের কৃষকদের চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে জমিতে বীজতলা করার আর উপায় নেই। সামান্য বর্ষাতেই ডুবে যায় ভূমিহীন কৃষকদের বাড়ির আঙিনা। সে আঙিনায় কৃষকরা ফলাত নানান সবজী সে আঙিনা এখন ফলনহীন হয়ে পড়েছে। অনেক ভূমিহীনের বসতভিটা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
ভূমিহীনরা ছোট ছোট পুকুর তৈরি করে পানি ব্যবহার ছাড়াও কেউ কেউ পরিবেশ সম্মতভাবে চাষ করতো নানান জাতের মাছ। এখন সে পুকুরগুলো উপচে পড়া পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলী জমিতে। ভূমিহীন যে মানুষগুলো ভূমি বন্দোবস্ত পেয়ে ঘর বেঁধেছিলো, যারা এই পতিত ভূমিকে আবাদযোগ্য করে তুলে এক নুতন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলো সেই ভাগ্যহীন ভূমিহীনরা আবারো উদ্বাস্তু হতে চলেছে। প্রভাবশালীরা শুধু নদী দখল করেই ক্ষান্ত নয়, তাদের লক্ষ্য আরো সুদূর প্রসারী। বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনদের কাছ থেকে তারা জোর জরবদস্তি করে কিনে নিচ্ছে জমি। যা সরকারের ভূমিবন্দোবস্ত আইনের পরিপন্থি। স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় ভূমিহীনরা মিথ্যা মামলায় ব্যাপারে হয়রানীর শিকার হচ্ছে। কখনো কখনো ভাড়াটে মাস্তানদের সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। জালছেঁড়া নদীর পাড়ের ভূমিহীনরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কগ্রস্ত সন্ত্রস্ত জীবন যাপন করছে। প্রায়ই তারা নির্যাতনের শিকার হয় প্রভাবশালীদের ভাড়াটিয়া মাস্তান বাহিনীর হাতে। ভূমিহীনদের বৌ-ঝিরা পর্যন্ত অপদস্ত হয়েছে। লাঞ্ছিত হয়েছে শারিরীকভাবে। সম্প্রতি প্রভাবশালীদের লাঠিয়াল বাহিনীর সঙ্গে এক সংঘর্ষে ৮ জন ভূমিহীন আহত হয়। প্রভাবশালীদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ভূমিহীন আব্দুল মতিন ও আলাউদ্দিন নামে দুটি ভূমিহীন পরিবারের ঘরসহ বসতভিটা পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সেকান্দার (৩৪) আবু তাহের (২৫) ও কালামকে (৩০) মারাত্মক আহত অবস্থায় চরজব্বার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নোয়াখালী জেলায় এখনো চিংড়ি ঘেরের জন্য কোনো বরাদ্দ না দেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের এই চিংড়ি ঘের স্থাপনের উদ্যোগে এলাকার ভূমিহীন কৃষকরা উদ্বিগ্ন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব রাশেদ মোশাররফ এক সমাবেশে ভূমিহীনদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন; চরের উর্বর জমির একটু জায়গাও চিংড়ি চাষের নামে দেয়া যাবে না।’ সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী একই সঙ্গে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, ‘মিথ্যা মামলায় ভূমিহীনরা যেন হয়রানীর শিকার না হয়।’ অথচ সরকারের এই প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভূমিহীনরা ভূমিহীন মন্ত্রাণালয়, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। অব্যাহতভাবে তারা প্রভাবশালীদের হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ভূমিহীনরা জানিয়েছেন, নদী দখল করে চিংড়ি ঘের করা হলে প্রায় ৪শ’ একর উর্বর কৃষি জমি সম্পূর্ন বন্ধ্যা অকৃষি জমিতে পরিণত হবে। স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় ৩শ’ ভূমিহীন পরিবার ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাবে। চিংড়ি চাষের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে যাবে। গাছ-পালা মরে যাবে। চরকার্ক, ধাণের শীষ ও চর বৈশাখীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে যাবে। সর্বোপরি বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের ফলে সরকারের ভূমি আইন ও ভূমি নীতিমালার বরখেলাপের মতো একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। নোয়াখালী উপকূলে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করা হলে স্বাভাবিক জল প্রবাহ বন্ধ হওয়াসহ চরম পরিবেশগত ও সামাজিক বিপর্যয় দেখা দেবে।

জমি দখলের সন্ত্রাস
থানার হাটের চিংড়ি ঘের এলাকার জনগণ জানান, ঘেরের নামে নদী দখল প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৯৭ সাল থেকে। সেখানে প্রথমে জনৈক তোতা মিয়া মাছ চাষ শুরু করেন। কিছুদিন পর তার কাছ থেকে দরবার শরীফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পটি কিনে নিয়ে যায়। তারপর নদী ভরাট করে বাঁধ দেয়া শুরু হয় ৯৯ সালের দিকে। আওয়ামী লীগ নেতা ডা. জাফর উল্লার লোক হিসেবে পরিচিত আল ফরিদ এ কাজ শুরু করে। এলাকার লোকজন জানান, কিছুদিন পর দেখা যায় ঐ প্রকল্প থেকে আল ফরিদের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকা লোপাট হয়ে যায়। ঘটনার পর এক পর্যায়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর সাইথ ইষ্ট কোস্ট এগ্রো ফিশারিজ কমপ্লেক্স লিঃ এর নামে ড. জাফর উল্লাহ সরাসরি ঘেরের তত্ত্বাবধান নিজের কাছে নিয়ে আসেন। তার পক্ষে নোয়াখালীর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন প্রাকল্পটি দেখাশোনা করতে থাকেন। কিছুদিনের মধ্যে ডা. জাফর উল্লাহর সাথে মোশাররফ হোসেনের মন কষাকষি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন কপর্দকশূন্য অবস্থায় ডা. জাফর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় ডা. জাফরের ভাই সে চিংড়ি ঘের দেখাশুনা করতে থাকেন। অতি সম্প্রতি আল ফরিদ বিদেশ থেকে ফিরে এসে ডা. জাফরের ঘেরের কিয়দংশ দখল করে নেয়। আল ফরিদ বর্তমানে আরো প্রতিপত্তি সঞ্চয় করে নতুন নতুন খাস জমি দখল করে ঘের নির্মাণ করছে। এ ঘের নির্মাণের জন্য চরকার্কের  ভূমিদস্যুরা সহযোগিতা করছে। স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করছেন, চিংড়ি ঘের নির্মাণ করার সময় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা নিয়ে বস্তুত চিংড়ি চাষের বদলে জমি দখলই মূল উদ্দেশ্য। তারা আরো বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পুলিশকে হাতে রাখতে ঘের মালিকরা প্রচুর অর্থ খরচ করে থাকেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালের জুন মাসে ভূমিহীনদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করার সময় দৈনিক দুশ’ লাঠিয়াল ভাড়া করা হয়েছিল।
এদিকে ডা. জাফর উল্লাহ জানান, চিংড়ি  ও অন্যান্য মাছের চাষ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। আর এ কারণেই তারা ঘের নির্মাণ করার জন্য উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে আমরা সে সুযোগ গ্রহণ করছি। এতে দোষের কিছু নেই। আমরা কোনো খাস জমি দখল করিনি। সব জমিই আমরা কিনেছি।’ স্থানীয় লোকজন জানান, মাছ রফতানীর তেমন কোন লক্ষণ দশ বছরেও তারা দেখেনি। অথচ সে জমি কৃষকদের কাছে থাকলে এরই মধ্যে প্রচুর ধান উৎপন্ন হতো।

বাগ্গা ডোনায় চিংড়ি ঘের
সুধারাম থানার চরজব্বর ইউনিয়নের চরবাগ্গায় নির্বিচারে চিংড়ি ঘের নির্মাণের কারণে একদিকে প্রবহমান ভুলুয়া নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে একই কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকছে হাজার হাজার একর ফসলী জমি। গত কয়েকবছর থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে ফসল থেকে। লবাণাক্ততায় নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা। এ থেকে সামাজিক সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আইনও হচ্ছে লঙ্ঘিত।
বাগ্গা ডোনা খালটি ভুলুয়া নদী নামে পরিচিত। এটি চাঁদপুরে মূল মেঘনা নদী থেকে এসে রায়পুর লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ ভবানীগঞ্জ হয়ে নোয়াখালীর সুধারাম ও লক্ষ্মীপুরে রামগতির সীমানা বরাবর দক্ষিনে সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে। এই নদী দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার বর্ষার পানি নিষ্কাশিত হয়। এই নদী ঘেঁষে কিছু প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তি দশ-বারটি ঘের নির্মাণ করেছে। ঘেরগুলোতে এত উঁচু ও লম্বা করে বাঁধ দেয়া হয়েছে যে, এলাকার পানি যেভাবে নদীতে গড়িয়ে পড়তো এবং নিষ্কাশিত হতো, এখন তা আর হতে পারছেনা। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। পাশাপাশি ঘেরে ব্যবহৃত লবণাক্ত ঔষধযুক্ত পানি বদ্ধ পানির সাথে এলাকার ফসলী জমিতে সৃষ্টি করছে বিষাক্ততা এবং লবণাক্ততা। মারাত্মক দূষণের ফলে চরজব্বার ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি উর্বর কৃষি জমি অনাবাদী ও অনুর্বর হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে চর জব্বর এলাকায় ধান উৎপাদন করে কৃষকরা স্বনির্ভর ও সচ্ছল জীবন যাপন করতো তারাই চিংড়ি ঘেরের কারণে ফসলহীনতায় পড়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকই এখন গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।  সরজমিন বাগ্গাডোনায় দেখা গেছে, প্রবহমান ভূলুয়া খালের একটি বাঁককে দুইদিকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে কৃষকদের জমির উপর বিকল্প খাল কাটা হয়েছে। চরজব্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সম্পূর্ণ জোর জবরদস্তিমূলক চিংড়ি ঘের নির্মাণ করেছে। বাগ্গা ডোনায় একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশ দিয়ে বিশাল এলাকা ঘিরে নির্মাণ করা হয়েছে চিংড়ি ঘের। এলাকার জনগণ অভিযোগ করেছে, চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এ ঘের নির্মাণ করেছে। ঘেরের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা ভূমিহীনদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। এমনকি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছে বেড়ী বাধের ধারে একটি সমজিদের পুকুরকে কেটে ঘেরের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

ভূমিহীনদের সাথে দ্বন্দ্ব-সংঘাত
জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভূমিহীনদের সাথেও ঘের মালিকদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে নানা রকম সামাজিক সংঘাত এবং অপতৎপরতা সৃষ্টি হয়। ঘের মালিকরা ভূমিহীনদের নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। স্থানীয় ভূমিহীনরা অভিযোগ করেন, ঘেরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য এনামুল হক (৩০) সাখায়েত উল্লাহ বারেক ( ৪৪) এবং নূর আমলের (২৭) বিরুদ্ধে একটি সামানো ধর্ষণ মামলা দায়েয়ের ফলে এই তিনজন ভূমিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত হয়। তিনজনের পরিবার পরিজন ও শিশুরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এদের একজনের দুটি শিশুপুত্র সে সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। দু’বছর পর হাইকোর্টে এক আপিলের ফলে তারা জামিনে মুক্ত হন।
ঘের ও বাঁধজনিত জলাবদ্ধতার কারণে চরজব্বর ও চর সুল্লুকীয়ায় দুই চেয়ারম্যান সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৯৯৯ সালের মধ্যভাগে চরজব্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্ল্যাহ তার মালিকানাধীন চিংড়ি ঘেরের বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দূর করতে চিংড়ি ঘের না কেটে চরজুবলীর রাস্তা কেটে দেয়। এত চরজুবলীর পাঙ্খার বাজারের কাছে ব্যাপক এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় প্রতিবাদমুখর গ্রামবাসীর সাথে চরজুবলীর চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনও প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে আবদুল্লাহ চেয়ারম্যানের লোকজন চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনকে মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। এতে চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন মাথায় গুরুতর জখম হন। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে নোয়াখালী, একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চর মজিদে সরজমিন পরিদর্শনকালে ঘেরের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় লোকজন জানায়, চিংড়ি ঘেরের জন্য ঘেরের মালিকরা কোনো রকম একটি দরখাস্ত করে অনুমতি ছাড়াই জমি দখল শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যযুগীয় কায়দায় আইন-কানুনের কোনো রকম তোয়াক্কা না করেই সন্ত্রাসী ভাড়া করে শত শত একর জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। শুধু দখলই নয় জমি দখলে রাখার কৌশল হিসাবে আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে সীমাহীন সন্ত্রাসের। অনেকে স্থায়ীভাবে ভাড়া করে দেখেছে বড় মাস্তান বাহিনী। তাদের হাত প্রশাসনের উচ্চ মহল পর্যন্ত বিস্তৃত। 
চরমজিদে ‌‌'গ্লোব এগ্রোভেট' খাস জমির উপর নির্মাণ করেছে অনুমতিহীন চারতলা ভবন। চরমজিদ ঘাটে অন্য আরেকটি চিংড়ি ঘেরের মালিক মোশাররফ হোসেন (আজরাইল) অবৈধভাবে জমি দখল করে সেখানে নির্মাণ করেছে বরফ কল। আল-আমিন লিঃ চরমজিদ ঘাটের পাশে এলাকার বন বিভাগের বন ধ্বংস করে সৃষ্টি করেছে কয়েক হাজার একর ভূমির এক বিশাল অঘোষিত সাম্রাজ্য। এদের ক্ষমতা ও আধিপত্যের কাছে প্রশাসনও নতজানু। সমাজের এলিট শ্রেণীর এসব ভূমিগ্রাসীরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে রেখেছে। তবে অধিকাংশই মতাসীন দলের সাথে সব সময়ই যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। 
বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার ভূমিহীন মানুষ তাদের মাথা গুজার ঠাঁইও হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছে। যাদের সামান্যতম কাগজপত্রও নেই তাদের হারানোর কিছুই নেই। কিন্তু যারা অতি কষ্টে শত কাঠখড় পুড়িয়ে একটুকরো জমি বন্দোবস্ত পেয়েছে তারাও তাদের শেষ সম্বল হারানোর আশংকায় শঙ্কিত।

নতুনভাবে চিংড়ি ঘেরের প্রস্তাবনা
গত প্রায় দুই দশ ধর নোয়াখালী উপকূলে চিংড়ি ঘের ঘোষণা করার পাঁয়তারা চলছিলো। কিন্তু সচেতন মহলের ব্যাপক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে বিগত সরকারগুলো সে পরিকল্পনা স্থগিত করে রাখে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চিংড়ি ঘের ঘোষণার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। সে সময় বেশ কিছু আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের মাঝে ঘর ও জমি বরাদ্দ দিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়। সে সময় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ভূমিহীনকে পুনর্বাসিত করারও পরিকল্পনা নেয়া হয়। জমি বরাদ্দ দিয়ে প্রতিটি বাড়িকে উৎপাদনশীল খামারে পরিণত করার এক সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তার বদলে ঘোষণা করা হয় চিংড়ি ঘের-এর মাধ্যমে উত্থান ঘটেছে অভিজাত রাজনৈতিক ভুমিগ্রাসী লুটেরা শ্রেণীর 

রাজনৈতিক বৈরিতায় ভূমিগ্রাসী সখ্যতা
সারাদেশে দুই প্রতিদন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যে সীমাহীন বৈরিতা চলছে নোয়াখালী যেন তার কিছুটা ব্যতিক্রম। জেলায় রাজনৈতিক হানাহানি তেমন একটা নেই বললেই চলে। লুটের সংস্কৃতিতে একদল আর এক দলকে সব সময় ছাড় দিয়ে থাকে। নোয়াখালীর দক্ষিণে চরের খাসজমি দখলে রয়েছে দুই দলের কিছু কিছু ওপরতলার নেতাদের আন্ত:ব্যক্তিক ভূমিগ্রাসী সখ্যতা। শুধু আওয়ামী লীগ বা বিএনপিই নয় জেলার প্রায় সব দলই একই সূত্রে গাঁথা। ওদের সবার সঙ্গে রয়েছে পরাক্রমশালী কয়জন শিল্পপতি। এদের কারো করো গায়ে রাজনৈতিক সিল আঁকা থাকলেও স্বার্থের ভাগবাটওয়ারাতে সবাই একই দলের একই গোত্রের। ঐ সব শিল্পপতি প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই প্রধান ডোনার গ্রুপ। নিয়মিত বিভিন্ন দলে তারা মোটা দাগের চাঁদা দিয়ে থাকেন। বিনিময়ে তারা যখন যে সরকার আগে সেই মতাসীন দল থেকে আদায় করে নেন দানের বহুগুন বেশি সুযোগ সুবিধা। 
বর্তমান সরকারের আমলে নোয়াখালীর উপকূলে ১২ হাজার ৮০০ একর খাস জমিকে চিংড়ি মহাল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন চলছে চিংড়ি মহালের জমি পাওয়ার জন্য আবেদন ফরম বিক্রি ও গ্রহণ। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে বাছাই করে ১০ থেকে ৩০ একর পর্যন্ত একেক জনকে জমি দেয়া হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই কয়েকজন শিল্পপতি ও রাজনৈতিক নেতা দখল করে নিয়েছে প্রায় সব জমি। প্রশাসনের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পুরো জমি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত ও জাসদসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামে বরাদ্দ দেয়ার চক্রান্ত চলছে। এরমধ্যে দুই হাজার একর আওয়ামী লীগ, ৮ হাজার একর বিএনপি অবশিষ্ট জমি শিল্পপতি ও অন্য দলের লোকদের নামে ভাগ বাটোয়ারা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন জায়গায় চিংড়ি ঘের নির্মাণ করে ইতিমধ্যেই দখল করে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি। এ ব্যপারে জেলার কজন শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জানান, সরকার ব্যবস্থা করার জন্য জমি দিচ্ছে তাঁরা সে সুযোগ গ্রহণ করছেন। এতে অসুবিধার কিছু নেই। 
যে বিপুল পরিমাণ খাস জমি  ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে অনুমান করা হয় তার বর্তমান বাজার মূল্য দুইশ’ থেকে আড়াইশ কোটি টাকা। এই জমি থেকে সরকার কোনো প্রকার খাজনা বা উন্নয়ন কর আদায় করতে পারছে না। সে হিসাবে প্রতি একর ভূমি থেকে ডিসিআর-এর মাধ্যমে এক সনা বন্দোবস্ত দেওয়া হলে পাওয়া যেত প্রতিবছর দেড় হাজার টাকা হারে প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রতিবছরই সরকার এ টাকা হারাচ্ছে। তা ছাড়া দেশ ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টন। অথচ এই জমিতে পুনর্বাসিত করা যেতো অন্তত ১২ হাজার ৮০০ ভূমিহীন পরিবার। উপকৃত হতো পঞ্চাশ-ষাট হাজার নারী-পুরুষ শিশু।

চিংড়ি চাষে হাজারো ক্ষতি
১. নোয়াখালীর সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় রয়েছে বিপুল কৃষি খাস জমি। পলিমাটি বিধৌত এ জমিতে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়। সরকারি ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী আইনগতভাবে কৃষিযোগ্য খাসজমি ভূমিহীনরা পাওয়ার অধিকার রাখে। অথচ চিংড়ি নীতিমালায় আছে যে জমিতে কোনো ফসল হয় না বা বসবাসের উপযোগী নয় সে জমিই একমাত্র চিংড়ি চাষের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নোয়াখালীর কোনো উর্বর জমিতেই চিংড়ি ঘের করা যাবে না। অথচ অ-নিয়মতান্ত্রিক চিংড়ি চাষের ফলে ভূমিহীনরা তাদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জাতীয় খাদ্য ঘাটতিও জাতীয উৎপাদনের কথা বিবেচনা করে কোনো কৃষিযোগ্য জমিতে চিংড়ি চাষ করা যাবেনা এই বিধান চিংড়ি নীতিমালায় থাকা প্রয়োজন।
২. নোয়াখালীর উপকূল নানা প্রকার প্রাণ বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। চিংড়ি চাষ করলে সে বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। জাতিসংঘের প্রাণবৈচিত্র্য কনভেনশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। সে কনভেনশনে প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। চিংড়ি চাষের ফলে নানা প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যবে। উদাহারণ হিসাবে বলা যেতে পারে নোয়াখালীর উপকূলে শুধু ধানই নয় রবি মৌসুমে ডাল, বাদামসহ নানান রবি শস্য ও ফসল উৎপাদন হয়। তাছাড়া এ অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে হাঁস পালন খুবই লাভজনক।  প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ছোট শামুক ও ছোট কাঁকড়া কেঁচো এদের প্রিয় খাবার। এ অঞ্চলে এ প্রজাতিগুলো প্রচুর পাওয়া যায়। চিংড়ি চাষের ফলে এগুলো ধ্বংস হবে, ফলে হাঁস পালন ও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী ভূমিহীনরা এক একর করে খাস জমি বন্দোবস্ত পেয়ে থাকে। যার মাধ্যমে একজন ভূমিহীন নিশ্চয়তা চায় বসতি গড়ার ও বেঁচে থাকার। এক একর জমিতে স্বল্প সময়ের জন্য যে লাভ আসে তার চেয়ে এক একর জমিতে আজন্মকাল যে ফসল হবে তাতে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাড়াবে অনেক গুণ। 
৪. নদী উপকূলের জেলে সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ইলিশ মাছ থেকে অর্জিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেমন ইলিশ মাছ ধরা পড়ছেনা। তাছাড়া উপকূলে এক সময় যে বিপুল পরিমাণ নানান জাতের মৎস্য ভান্ডার ছিলো তা প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। তার একমাত্র কারণ নদীতে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি পোনা ধরা। পোনা ধরার সময় হাজার প্রজাতির কোটি কোটি মাছের রেনু ধরে ধ্বংস করা হচ্ছে। শুধু মাত্র চিংড়ি পোনা ধরার জন্য ধ্বংস হচ্ছে লক্ষ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ। ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণ বৈচিত্র্য।
৫. চিংড়ি ঘের নির্মাণের ফলে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে তাতে জনজীবনে নেমে আসছে চরম দুর্ভোগ। এর কারণে উপকূলীয় আঞ্চলে কৃষি জমিগুলো অ-কৃষি জমিতে পরিণত হচ্ছে।

সুপারিশমালা
সুতরাং নোয়াখালী উপকূলে চিংড়ি ঘের নির্মাণের পূর্বে ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী ক্ষেতমজুর, কৃষক, ব্যবসায়ী ও উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের সাথে মত বিনিময় করে এ বিষয়ে নীতিমালা করা জরুরি।
উপকূলের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষদের সাথে মতবিনিময় করে জানা গেছে নোয়াখালীর উপকূলে কোনো অবস্থায়ই চিংড়ি ঘের নির্মাণের উপযোগী নয়। একদিকে যেমন প্রতিবছর নতুন নতুন ভূমি সাগর থেকে জেগে উঠছে অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গনের ফলে মানুষ নিঃস্ব ভূমিহীন হচ্ছে। নদীভাঙ্গা মানুষের মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। তাদেরকে ত্বরিৎ ব্যবস্থা করে খাস জমিতে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। সচেতন মহল মনে করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করে সামাজিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি না করে ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
নোয়াখালীর উপকূল জুড়ে এক সময় ছিলো গরু মহিষ ভেড়াসহ গবাদী পশুর এক বিশাল চারণ ক্ষেত্র। গবাদী পশুর জন্য এ এলাকা ছিলো প্রসিদ্ধ ও সমৃদ্ধ। বন বিভাগের বনায়নের ফলে সে ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকৃলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি উপকূলে চারণ ভূমি সৃজন করা। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে অবিলম্বে জনস্বার্থ বিরোধী ও পরিবেশ বিধ্বংসী চিংড়ী মহাল বন্ধ করে ভূমিহীনদের প্রাপ্ত জমি বন্দোবস্ত দেয়া প্রয়োজন। সে সাথে ভূমিহীনদের আয়ের উৎস চারণভূমি সৃজন করে উপকূলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ উৎপাদন ও আয় করা সম্ভব। বাস্তবতার নিরিখে উপকূলবাসী মনে করে ভূমিহীন পুনর্বাসিত করে উদ্বৃত্ত জমিতে চারণক্ষেত্র ও দেশী প্রজাতির বনায়ন করা হলে অর্থনীতিতে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে।     

Mahmudul Huq Foez
 
Advertisement
 
আপনজন
 
ভালোবাসার একটি গোলাপ
সাতরাজারই ধন,
কোথায় খুঁজিস ওরে ক্ষেপা
এইতো আপন জন।
নীরবতা
 
নীরবে কেটেছে দিবস আমার
নীরবে কেটেছে রাত,
নীরবে হেনেছে হৃদয় আমার
প্রণয়ের অভিসম্পাত।
রঙ
 
রঙ দেখেছো রঙ ?
শাওন রাতের
নিকষ কালো
অন্ধকারের রঙ !
রঙ দেখেছো রঙ !
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
 
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। নোয়াখালী সদরের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই চর এলাকা। এখানে বাস করে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অধিকাংশই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাছাড়াও দিনমজুর, রিক্সাশ্রমিক, জেলে প্রভৃতি পেশার মানুষ এখানে বাস করে। খুব কমসংখ্যক নারি কৃষি সহ বিভিন্ন কাজ করলেও তারা মূলত ঘরকন্যার কাজ করে থাকে। ঘর কেন্দ্রিক নানান কাজের সঙ্গেও এরা জড়িত। এইসব নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার হার খুব কম। জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতাও এদের তেমন নেই। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এরা বেশীরভাগ সময়ে সনাতন জ্ঞান, নিজস্ব ধারনা এবং আকাশের হাবভাব দেখে বুঝতে চেষ্টা করে। প্রায় ক্ষেত্রে এরা নিয়তির উপর নিজেদেরকে সমর্পন করে থাকে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের ঝড় জলোচ্ছাস ও সাম্প্রতিক সিডরের কারনে এদের ভিতর কিছুটা সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের অধিকাংশের বাড়িতে রেডিও কিংবা টেলিভিশন নেই। তবে তারা স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে রেডিও টেলিভিশন থেকে খবরাখবর পেয়ে থাকে।
গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে অনেক গুলো বড় বড় ঝড় জলোচ্ছাস গর্কী সহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে গিয়েছিলো। সে দুর্যোগ গুলোতে প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ‘৫৮.’৬০, ও ‘৭০ এর জলোচ্ছাস এ অঞ্চলে ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। সে সময় এখানকার মানুষ কোনো মাধ্যম থেকে কেনো সংবাদই পেতোনা। সে সময়ের সরকার গুলোও ছিলো এব্যপারে একেবারেই উদাসীন।
নোয়াখালী সদরের সর্বদক্ষিনে হাতিয়া ষ্টিমার ঘাট ও অতিসম্প্রতি বয়ার চরের সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলে ফেরী চলাচলের জন্য চেয়ারম্যান ঘাট নামক স্থানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌপরিবহন সংস্থার একটি পল্টুন স্থাপিত হয়েছে । এখানে হাতিয়া দ্বীপ ও নোয়াখালীর মূল ভূখন্ডের মধ্যে ফেরি যোগাযোগ রয়েছে । এ এলাকায় মেঘনার মোহনায় প্রচুর সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার ও ছোটছোট জেলে নৌকা এসে ভীড়ে থাকে । এই ফেরীঘাটের সুবাদে এখানে একটি জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। এখানের অনেক জেলে জানিয়েছেন, তাদের অনেকেরই নিজস্ব কোনো রেডিও নেই। যারা চরের কাছাকাছি থেকে সাধারনত: মাছ ধরে থাকে। ছোট নৌকা নিয়ে তারা কখনো গভীর সমুদ্রে যায় না। কখনো কোনো দুর্যোগ দেখলে নদীর হাবভাব বুঝে সাবধানতা অবলম্বন করে। সারাদিন মাছ ধরা শেষে রাতে তারা চেয়ারম্যান ঘাটে কিংবা হাতিয়া ষ্টিমার ঘাটে আসলে লোকমুখে বিভিন্ন সংবাদ পেয়ে থাকে। নদীর কূলের এ বাজার গুলোতে এখন রেডিও তেমন শুনা হয়না। চা দোকান গুলোতে টেলিভিশন আছে । তাই সেখানে কাষ্টমারের ভীড় লেগে থাকে। যে দোকানে টেলিভিশন নেই সে দোকানে লোকজন তেমন যায় না। এসব দোকান গুলোতে বেশীর ভাগ সময় নাটক ও সিনেমা বেশী দেখা হয়। তবে দুর্যোগকালীন সময় সংবাদ বেশী দেখা হয়। এলাকার মানুষদের বদ্ধমূল ধারনা জন্মেছে যে, রেডিও টেলিভিশনে জাতীয় সংবাদ ছাড়া স্থানীয় সংবাদ প্রচারিত হয়না। তাই তারা খুব প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্থানীয় সংবাদ গুলো লোকমারফত পেয়ে থাকে। তবে তা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয়না। দুর্গম অঞ্চলের অনেক মানুষ জানিয়েছেন গত সিডরের সময় তারা লোকমুখে সংবাদ পেয়েছিলেন। সাগরের অবস্থা দেখে তারা সাগর থেকে ডাঙ্গায় চলে এসেছেন, তবে অনেকে উপরে সাগরের কাছাকাছি নিজেদের ঘরেই ছিলেন। অনেকেই নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি।
জরিপের বিশ্লেষন: কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content) সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ কার্য চালানোর সময় জানা গেছে, এরকম একটি সম্প্রচার কেন্দ্র সন্মন্ধে অনেকেরই ধারনা খুবই অস্পস্ট। এব্যপারে অনেকের কোনো রকম কোনো ধারনাই নেই। তবে বিষয়টি বুঝার পরে সবার মধ্যেই প্রচুর আগ্রহের সৃষ্টি হয়। তারা সকলেই মত দেন যে এরকম একটি কেন্দ্র এলাকায় খুবই প্রয়োজন।
নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলের কয়েকটি এলাকায় মোট ২০জনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। এখানে মাত্র দুজনের রেডিও এবং মাত্র এক জনের নিজস্ব একটি ছোট্ট টেলিভিশন ও রেডিও রয়েছে। তাদের অবশ্য খবর তেমন শুনা হয়না। রেডিওতে গান এবং টেলিভিশনে নাটক দেখা ও গানশুনা বেশী হয়। নারিদের শুধু নাটক ও গানই শোনা হয়। তবে পুরুষরা মাঝে মাঝে খবর শুনে থাকে। নারিদের মধ্যে খবর শুনার আগ্রহ খুব কম। গত সিডরের সময় পুরুষরা ১০০ শতাংশই রেডিও কিংবা টেলিভিশনে খবর পেয়েছেন কিন্তু ১০০ শতাংশ নারি বলেছেন তারা তাদের স্বামী কিংবা লোকমারফত খবর পেয়েছেন। ৮০শতাংশ বলেছেন তারা ঝড়ের পূর্বাভাষ পেয়ে নিজেদের জায়গায়ই অবস্থান করেন। এর কারণ হিসাবে তাঁরা বলেন বাড়ির নিরাপত্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। যেমন সেখানে কোথাও পানি বা বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। এ নিয়ে বিশেষ করে মেয়েদের খুবই অসুবিধা পড়তে হয়। তাই অনেকেই সেখানে যেতে তেমন আগ্রহী হয়না। নিয়তির উপরও তারা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১০০ শতাংশ বলেছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়কালে তাঁরা আবহাওয়ার সংবাদ শুনতে চান। ১০০ শতাংশ বলেছেন তাদের অনুষ্ঠান দেখতে সবচেয়ে বেশী আগ্রহ নাটকের প্রতি । তবে বাংলা সিনেমার প্রতিও তাদের আগ্রহ রয়েছে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন, কমিউনিটি রেডিও স্থাপিত হলে শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা দেয়া উচিত। অন্য ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন শাসন না করলে শিশুদের পড়াশুনা হয়না। তবে তারা এও জানিয়েছেন এর মাত্রা যেন অতিরিক্ত না হয়। এ বিষয়ে শিশুদের উপযোগী অনুষ্ঠান প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা জানিয়েছেন। ১০০ শতাংশ জানিয়েছেন বয়ো:সন্ধিকালীন সময়ে মেয়েদের সমস্যা বিষয়ক সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান বিশেষ ভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। সবাই মনে করেন এ ব্যপারে মেয়েরা এমন কি অভিভাবকরাও এ বিষয়ে তেমন সচেতন নন। এ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন। এথেকে মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ে ১০০শতাংশ জানিয়েছেন মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারন রোগবালাই, ডায়রিয়া, খাদ্যে পুষ্টিমান, টিকা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা মুলক অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। তবে মাত্র এক জন এইড্‌স বিষয়ে অনুষ্ঠান করার কথা জানিয়েছেন। বাসস্থান বিষয়ে ৭৫শতাংশ জানিয়েছেন, ভূমি ও ভূমির অধিকার বিষয়ে নানান অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। অবশ্য এ ব্যপারে পুরুষরাই বেশী আগ্রহী। নোয়াখালীতে তাঁত শিল্পের তেমন কোনো প্রসার নেই। এবিষয়ে কারো তেমন কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে ১০০শতাংশই হস্তশিল্প ও নারিদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করার কথা বলেছেন। একজন মন্তব্য করেন এক সময় নোয়াখালীতে প্রচুর তাঁতের প্রসার ছিলো । কিন্তু কালের গর্ভে তা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানে স্থানে যুগীপাড়া ছিলো। সেখানে লুঙ্গি গামছা শাড়ি এসব স্থানীয় ভাবে তৈরী হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এগুলো বাইরের জেলা গুলোতে চালান হতো। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে পারলে সেগুলো হয়তো আবার চালু হবে। আশা করা যায় এ থেকে তখন হয়তো এ এলাকার অনেক উন্নতি সাধিত হবে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন কৃষিঋণ, সার, বীজ, উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ, হাঁস মুরগি পালন, কীটনাশক ছাড়া সব্জী চাষ, খাদ্যে পুষ্টিমান ইত্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা প্রয়োজন।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যম হওয়া উচিত নাটক, কথিকা, জীবন্তিকা ইত্যাদির মাধ্যমে। এরা আরো জানিয়েছেন স্থানীয় ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে সবার কাছে তা গ্রহনযোগ্য হবে। এছাড়াও স্থানীয় ভাষায় নাটক, গান এবং স্থানীয় সমস্যা ও সমাধান ইত্যাদি বেশী বেশী প্রচার হওয়া দরকার বলে সবাই জানিয়েছেন।
উপসংহার:- সার্বিক জরিপে দেখা যায় এ এলাকার জন্য কমিউনিটি রেডিওর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দুর্গম এ অঞ্চলের মানুষ কাছের খবরটিও সঠিক ভাবে পায়না। কথায় কথায এলাকাবাসী জানায়, ‘‍ইরােক েবামায় মানুষ মরার খবর আমরা সাথে সাথে রেডিও টেলিভিশনে পাই কিন্তু পাশের গ্রামে মড়ক লেগে হাঁসমুরগী মারা গেলে আমরা তার খবর পাইনা‍ অথচ এটি আমাদের জন্য অধিকতর জরুরী’। এখানে এটি স্থাপিত হলে শুধু দুর্যোগকালীন সময়েই নয়, এ কেন্দ্র গ্রামীণ জনগণের সার্বক্ষনিক দিনযাপনের অনুসঙ্গ হয়ে থাকেব। স্থানীয় ভাষায় স্থানীয় আঙ্গিকে স্থানীয় সমস্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে এটি জনগনের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং অধিক গ্রহনযোগ্যতা পাবে। এলাকায় সচেতনতা বাড়বে। উপকৃত হবে প্রান্তিক মানুষ।

মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক
মোবাইল: ০১৭১১২২৩৩৯৯
e-mail: mhfoez@gmail.com

Mail to : massline@bangla.net
masslinemediacenter@yahoo.com



 

=> Do you also want a homepage for free? Then click here! <=
সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত