রৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রোদ্রবৃষ্টি
   
 
  জাল দলিল

নোয়াখালীর খাসজমির জটিলতা (পর্ব-৪)

‘জাল দলিল’ নোয়াখালীর ভূমি ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ


‘জাল দলিল’ উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে দুষ্ট ক্ষতের মতো বিরাজ করছে। বিদ্যমান ভূমি আইন ও ভূমি প্রশাসনের নানান অসংগতির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ চক্র ‘জাল দলিল’ তৈরি করে নোয়াখালীর ভূমি ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিকরা হয়রাণির শিকার হচ্ছেন; কখনোবা অবৈধ দখলদাররা মালিক বনে যাচ্ছেন। এদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করছে ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস ও স্যাটেলমেন্ট অফিসের এক শ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় এ ধরনের কাজ হলেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছেনা। ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইন যুগোপযোগী করা এবং এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।  
 
শত বছরের পুরানো রেজিস্ট্রি আইন
১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রি আইনে বলা হয়েছে কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা বিক্রি যদি একশ’ টাকায় হয় অর্থাৎ কোনো সম্পত্তির মূল্য যদি একশ’ টাকার মধ্যে হয় তাহলে সে সম্পত্তি কেনাবেচায় কোনো রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হবে না; সংগত কারণে রেজিস্ট্রি অফিসে এ ধরনের জমির কোনো প্রমাণ রাখার প্রয়োজন হবেনা। আইনের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে এ ক্ষেত্রে যে কেউ কোনো বিতর্কিত জমির ত্রিশ চল্লিশ বছর পূর্বের একটি কাগজে একশ’ টাকার কম মূল্য দেখিয়ে ‘লিখিত দলিল’ বানিয়ে ঐ জমির মালিকানা দাবী করতে পারবে। এ বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে ত্রিশ বছর পর্যন্ত স্যা আইনের আওতায় যে কারো দস্তখত চ্যালেঞ্জ করা যাবে, কিন্তু ত্রিশ বছর পর সেটি আপনাতেই বৈধ হয়ে যাবে। তার মানে আজকে যদি কেউ ত্রিশ বছর পূর্বের কোনো কাগজ দেখিয়ে নাম দস্তখত করে তাহলে ঐ দলিলের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগই থাকলো না। আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে এভাবে অবৈধ দলিল তৈরির সুযোগ রয়ে গেছে। নোয়াখালী অঞ্চলে এরকম জাল দলিল নিয়ে অসংখ্য মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।  

যেভাবে জাল দলিল তৈরি হয়
নোয়াখালী অঞ্চলে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জাল দলিল তৈরির কাজে সক্রিয় রয়েছে। আশি/নব্বই বছর পূর্বে নোয়াখালীর  যে জমির দাম ছিল আশি টাকা এখন সেই জমির মূল্য দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশ ল টাকার বেশি। বিবাদমান কোনো জমির একশ’ টাকার নীচে দেখিয়ে অনেকেই দাবী করে বসছে ঐ ভূমি তার পূর্ব পুরুষ ৮০ কিংবা ৯০ টাকায় খরিদ করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে কারো কারো দাবী টিকেও যাচ্ছে। এসব ঘটনায় তারা আশ্রয় নিচ্ছে জাল দলিল তৈরির জালিয়াত চক্রের কাছে; এরা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে জাল দলিল তৈরি করে দিয়ে থাকে। জালিয়াত চক্র পুরোনো দিনের কাগজ অথবা পুরাতন স্ট্যাম্প কিংবা কার্টিজ পেপার সংগ্রহ করে জাল দলিল বানিয়ে দিচ্ছে। এই ‘জাল দলিল’ এতটাই নিখুঁত যে প্রায় ক্ষেত্রে আদালতও তা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
এই পুরানো দলিল তৈরির লাভজনক ব্যবসা(!) যারা করে তারা অনেক দিনের পুরানো কাগজ সংগ্রহ করে রাখে। কারণ ত্রিশ চল্লিশ বছরের পুরানো কাগজ বর্তমান সময়ের কাগজের মতো হবে না। এসব পুরানো ব্যবহৃত দলিল ভালোভাবে ধূয়ে কালি উঠিয়ে সে কাগজে আবার নতুন করে লেখা হয়। এর জন্য একটি বিশেষ কেমিকেল ব্যবহার করা হয়। পুরানো এই দলিলের কাগজে পুরানো নম্বর থাকায় এটি আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে। এছাড়া তারা নতুন কাগজকেও পুরোনো কাগজ হিসেবে চালানোর কৌশল গ্রহণ করে; এ ক্ষেত্রে তারা কাগজটিকে অল্প আগুনের তাপে বিশেষ কায়দায় ধরে কিংবা বিশেষভাবে ধোঁয়া দিয়ে পুরানো কাগজের আদল তৈরি করে। তারপর ঐ কাগজকে উইপোকার ঢিবিতে রেখে বুঝানো হয় এই দলিল অনেক পুরানো এবং দলিলটি উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে। আবার কাগজের স্থানে স্থানে বিশেষভাবে কেমিকেল দিয়ে ফুটো করে বিশ্বাস আনা হয় যে উইপোকা দলিল নষ্ট করে ফেলেছে। এই রকম দলিল তৈরি করলে জালিয়াত চক্রের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে গ্রাহকরা তা কিনে নেয়। যারা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তারা গ্রাহকদের মনমতো দলিল বানিয়ে থাকে। এর জন্য দশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকাও নেয়া হয়। এ ধরনের জাল দলিল নোয়াখালীর কোর্ট কাছারীতে প্রায়ই দেখা যায়।
নোয়াখালীর আদালতপাড়ায় একটি মুখরোচক গল্প প্রচলিত আছে যে, শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপা কাঁপা হাতে সই জাল করা হয়। এ ধরনের জাল দলিলকে ‘মাঘ মাসের দলিল’ বলা হয়। 

গলদের সূত্রপাত যেখান
বিদ্যমান ভূমি প্রশাসন ও আইনের মধ্যেই মূলত: জাল দলিল করার সুযোগ রয়ে গেছে। বিদ্যমান ভূমি প্রশাসন তিন ভাগে বিভক্ত। 
১.ভূমি মালিকানার রেকর্ড সংরণ,
২.রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, 
৩.জরিপ ও রেকর্ড সংশোধন। 
বাস্তব ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় যে এক অফিসের রেকর্ডের সাথে আর এক অফিসের কোনো মিল নেই। ভূমি প্রশাসন জমির মালিকানা স্বত্ব সংরণ করে; ভূমি প্রশাসন কাজ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিনে। আবার ভূমি হস্তান্তর কিংবা রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত রেজিস্ট্রি অফিস কাজ করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে রেজিস্ট্রেশন কিংবা দলিল দস্তাবেজ সংরণ বিষয়ে কোনো জটিলতা দেখা দিলে উভয় মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকা ভুক্তভোগীদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়।
রেজিস্ট্রি অফিসে একজন সাব রেজিস্ট্রার জমির ক্রয় বিক্রয়ের দলিল কোনো প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই নিবন্ধন করতে পারেন। তিনি দলিলের মালিকানা শুদ্ধ কি অশুদ্ধ তা যাচাই বাছাই করতে বাধ্য নন। এ কারণেই সারা দেশের মতো নোয়াখালীতেও জমির জাল দলিলের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জাল দলিলের কারণে এ অঞ্চলে অসংখ্য মামলা মকদ্দমার উদ্ভব হচ্ছে। জালদলিল এখন দূরারোগ্য ক্যান্সারের মতো নোয়াখালীর সমাজ দেহে ছড়িয়ে পড়েছে। এই জাল দলিলের ফাঁদে পড়ে কত মানুষ যে তার সহায়-সম্পত্তি হারিয়েছে তার হিসাব নেওয়াও কষ্টকর।

জাল দলিল তৈরির সহায়তাকারী
উপরোক্ত বিষয়গুলো করা হচ্ছে নিবন্ধনকৃত নয় এমন দলিলের ক্ষত্রে। কিন্তু রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলও অনেক ক্ষেত্রে জাল করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে এই সকল জালিয়াতি চক্রের সাথে সরকারি দপ্তরের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন। কোনো দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হলে তা রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত থাকে। জেলার রেকর্ডরুম গুলোতে দেখা যায় অনেক বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা সংশ্লিষ্ট বইয়ে নেই বা ছেঁড়া, কোথাও কোথাও দেখা যায় কালি দিয়ে লেপ্টে দেয়া আছে। দেখা যায় সরকারি কর্মচারীদের যোগসাজসে জালিয়াত চক্র বালাম বইতে যে নম্বর পৃষ্ঠার কোনো রেফারেন্স নাই সেই সব পৃষ্ঠার নম্বর দিয়েই জাল দলিল তৈরি করছে। কেউ কোনো চ্যালেঞ্জ করলে দেখা যায় ঐ বালাম বইয়ের পৃষ্ঠাটি নষ্ট বা ছেঁড়া; অথচ সেই পৃষ্ঠা কোনোদিনই কেউ খুঁজেও পাবে না। ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস ও স্যাটেলমেন্ট অফিসের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দ্বিগুণ উৎসাহে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে।

‘কসবার দলিল’
নোয়াখালীর আদালত পাড়ায় জাল দলিল বিষয়ে ‘কসবার দলিল’ বলে একটি মুখরোচক কথা প্রচলিত রয়েছে। কোনো দলিল জাল বলে সন্দেহ হলেই সেই দলিলকে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেটিকে কসবার দলিল বলে থাকেন। স্বাধীনতার পরে নোয়াখালীতে বেশ কিছু দলিল আদালতে দাখিল করা হয় যা ছিল কসবা রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধনকৃত। এর পরিমাণ একসময় বেশ বেড়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কসবা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। সেই অফিসের বালাম বইসহ কাগজপত্র রেকর্ড সম্পূর্ণই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সুযোগটি গ্রহণ করে জালিয়াত চক্র। তারা পুরানো কাগজপত্র দিয়ে সেই কসবার অফিসের উপর জাল দলিল তৈরি করে। সেই দলিল যাচাই বাছাই করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ রেকর্ড বই বলতে কোনো কিছু অবশিষ্ট না থাকায় আদালত যাচাই বাছাইয়ের জন্য তদন্ত করতেও পারে না। এ ক্ষেত্রে জালিয়াত চক্রেরই পোয়াবারো!
উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর সীমানায় চন্দ্রগঞ্জের পূর্ব বাজারে পাশাপাশি একটি স্কুল ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। দুটো প্রতিষ্ঠানের জমিই মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। মূলত: জমিগুলো এক সময় ছিলো হিন্দু সম্পত্তি। উভয় প আদালতে তাদের জমির মালিকানার জন্য দলিল প্রদান করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে দুই পই জাল দলিল কোর্টে উপস্থাপন করে। দুই পরে দলিলই কসবার দলিল। যেহেতু এ সম্পত্তি এক সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিলো। ’৪৭ সনে দেশ বিভাগের সময় তারা এ সম্পত্তি ফেলে চলে যায়। স্বভাবতই জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হয়ে যায়। কিন্তু স্কুল ও মাদ্রাসার কর্তৃপ দেশ বিভাগের পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে কসবার জাল দলিল তৈরি করে নেয়। এখন আদালতে উপস্থাপনের পর দু’টাই জাল বলে ধরা পড়ে যায়। শেষে উপায়ান্ত না দেখে উভয়ই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে মামলার নিস্পত্তি ঘটায়।
এরকম আরেকটি সমঝোতার খবর জানা যায় নোয়াখালীর জীন্ততলী নামক এলাকায়; এখানে একটি বিবাদমান সম্পত্তি বিষয়ে অ্যাডভোকেট মনছুরুল হক খসরু জানান, “ঐ জমিটি একটি হিন্দু মালিকের ভূমি। দেশ বিভাগের পর তিনি চলে গেলে দু’জন মুসলিম সে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে তারা উভয়ে দুটি জাল দলিল কোর্টে উপস্থাপন করে উভয়ই ঐ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। আমি দু’জনকেই শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার মাধ্যমে ভোগ দখল করার পরামর্শ দিই।”

ত্রুটিপূর্ণ খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা
সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালাটি খুবই ত্রুটিপূর্ণ। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে খাস জমি বন্দোবস্তের জন্য দ্বৈত পদ্ধতি চালু রয়েছে। একদিকে প্রশাসন অন্যদিকে চর উন্নয়ন সংস্থা ‘সিডিএসপি’। দেখা যায় একই জমি একবার প্রশাসন বন্দোবস্ত দিয়েছে একজনকে, আবার সিডিএসপি দিয়েছে অন্যজনকে। এভাবে একই জমি দু’জন বা দু’পক্ষকে দিয়ে দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। আইনজীবীদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, নোয়াখালী আদালতে এ রকম প্রায় দু’শ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চরাঞ্চলের খাস জমি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জাল দলিল সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সরকার হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল পক্ষ। আমলাদের দুর্নীতিগ্রস্ততার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালীরা বিভিন্নভাবে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি ভূমি গ্রাস করে নিচ্ছে।

কেসস্টাডি
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার অধিবাসী মৃত কানু মোহন ঘোষের দুই পুত্র সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও লক্ষণ চন্দ্র ঘোষ অভিযোগ করেন যে, তারা চাটখিলের অন্তর্গত ১০১ নং রৌহিত আলী মৌজায় ৫ নং তৌকির ২ নং খতিয়ানে এবং ১৫০/১ নং খতিয়ানে মোট ১.৪৭ ডিং ভূমির মালিক। কিন্তু মৃত জয়নাল আবেদীনের ওয়ারিশ শফিউল্লাহ ও অলিউল্লাহ দাবি করেন, ঐ জমি মৃত জয়নাল আবেদীন মৃত কানু মোহন ঘোষ থেকে ছাপ কবলা মূলে অনেক আগেই খরিদ করে। এর প্রমাণ স্বরূপ তারা কবিরহাটের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি দলিল আদালতে উপস্থাপন করে। সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও লক্ষণ চন্দ্র ঘোষ ঐ দলিলের বিরুদ্ধে জাল দলিল উল্লেখ করে আদালতে মামলা করে। বাদীগণ অভিযোগ করে, আইনের ফাঁক দিয়ে সম্পূর্ণ জালিয়াতের মাধ্যমে কবিরহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করা হয়েছে।

সুপারিশ
জাল দলিল নোয়াখালীর পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কলুষিত ও বিতর্কিত করে ফেলেছে। জাল দলিলের জন্য অনেক ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থাপনাটি স্থবির ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আইনজীবী, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি এবং ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে এ সমস্যা সমাধানে নিম্নলিখিত সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়েছে
# ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস ও সেটেল্টমেন্ট অফিস একই মন্ত্রণালয়ে এবং একই ব্যবস্থাপনায় রাখা দরকার।
# কোনো দলিল সম্পাদনের পূর্বে দলিল প্রদানকারীর সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
# দুর্নীতি পরায়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
# সকলের ক্ষত্রেই রেজিস্ট্রিকরণের সময় টিপসই গ্রহণ ও সংরণ করতে হবে।
# জাল দলিল প্রণেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
# নোয়াখালীর প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে কী পরিমাণ খাস জমি রয়েছে তা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সর্বসাধারণের জানার সুযোগ থাকতে হবে।
# ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও রেকর্ড সংরণ ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত আধুনিক পদ্ধতির আওতায় আনা যেতে পারে।

Mahmudul Huq Foez
 
Advertisement
 
আপনজন
 
ভালোবাসার একটি গোলাপ
সাতরাজারই ধন,
কোথায় খুঁজিস ওরে ক্ষেপা
এইতো আপন জন।
নীরবতা
 
নীরবে কেটেছে দিবস আমার
নীরবে কেটেছে রাত,
নীরবে হেনেছে হৃদয় আমার
প্রণয়ের অভিসম্পাত।
রঙ
 
রঙ দেখেছো রঙ ?
শাওন রাতের
নিকষ কালো
অন্ধকারের রঙ !
রঙ দেখেছো রঙ !
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
 
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। নোয়াখালী সদরের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই চর এলাকা। এখানে বাস করে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অধিকাংশই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাছাড়াও দিনমজুর, রিক্সাশ্রমিক, জেলে প্রভৃতি পেশার মানুষ এখানে বাস করে। খুব কমসংখ্যক নারি কৃষি সহ বিভিন্ন কাজ করলেও তারা মূলত ঘরকন্যার কাজ করে থাকে। ঘর কেন্দ্রিক নানান কাজের সঙ্গেও এরা জড়িত। এইসব নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার হার খুব কম। জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতাও এদের তেমন নেই। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এরা বেশীরভাগ সময়ে সনাতন জ্ঞান, নিজস্ব ধারনা এবং আকাশের হাবভাব দেখে বুঝতে চেষ্টা করে। প্রায় ক্ষেত্রে এরা নিয়তির উপর নিজেদেরকে সমর্পন করে থাকে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের ঝড় জলোচ্ছাস ও সাম্প্রতিক সিডরের কারনে এদের ভিতর কিছুটা সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের অধিকাংশের বাড়িতে রেডিও কিংবা টেলিভিশন নেই। তবে তারা স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে রেডিও টেলিভিশন থেকে খবরাখবর পেয়ে থাকে।
গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে অনেক গুলো বড় বড় ঝড় জলোচ্ছাস গর্কী সহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে গিয়েছিলো। সে দুর্যোগ গুলোতে প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ‘৫৮.’৬০, ও ‘৭০ এর জলোচ্ছাস এ অঞ্চলে ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। সে সময় এখানকার মানুষ কোনো মাধ্যম থেকে কেনো সংবাদই পেতোনা। সে সময়ের সরকার গুলোও ছিলো এব্যপারে একেবারেই উদাসীন।
নোয়াখালী সদরের সর্বদক্ষিনে হাতিয়া ষ্টিমার ঘাট ও অতিসম্প্রতি বয়ার চরের সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলে ফেরী চলাচলের জন্য চেয়ারম্যান ঘাট নামক স্থানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌপরিবহন সংস্থার একটি পল্টুন স্থাপিত হয়েছে । এখানে হাতিয়া দ্বীপ ও নোয়াখালীর মূল ভূখন্ডের মধ্যে ফেরি যোগাযোগ রয়েছে । এ এলাকায় মেঘনার মোহনায় প্রচুর সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার ও ছোটছোট জেলে নৌকা এসে ভীড়ে থাকে । এই ফেরীঘাটের সুবাদে এখানে একটি জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। এখানের অনেক জেলে জানিয়েছেন, তাদের অনেকেরই নিজস্ব কোনো রেডিও নেই। যারা চরের কাছাকাছি থেকে সাধারনত: মাছ ধরে থাকে। ছোট নৌকা নিয়ে তারা কখনো গভীর সমুদ্রে যায় না। কখনো কোনো দুর্যোগ দেখলে নদীর হাবভাব বুঝে সাবধানতা অবলম্বন করে। সারাদিন মাছ ধরা শেষে রাতে তারা চেয়ারম্যান ঘাটে কিংবা হাতিয়া ষ্টিমার ঘাটে আসলে লোকমুখে বিভিন্ন সংবাদ পেয়ে থাকে। নদীর কূলের এ বাজার গুলোতে এখন রেডিও তেমন শুনা হয়না। চা দোকান গুলোতে টেলিভিশন আছে । তাই সেখানে কাষ্টমারের ভীড় লেগে থাকে। যে দোকানে টেলিভিশন নেই সে দোকানে লোকজন তেমন যায় না। এসব দোকান গুলোতে বেশীর ভাগ সময় নাটক ও সিনেমা বেশী দেখা হয়। তবে দুর্যোগকালীন সময় সংবাদ বেশী দেখা হয়। এলাকার মানুষদের বদ্ধমূল ধারনা জন্মেছে যে, রেডিও টেলিভিশনে জাতীয় সংবাদ ছাড়া স্থানীয় সংবাদ প্রচারিত হয়না। তাই তারা খুব প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্থানীয় সংবাদ গুলো লোকমারফত পেয়ে থাকে। তবে তা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয়না। দুর্গম অঞ্চলের অনেক মানুষ জানিয়েছেন গত সিডরের সময় তারা লোকমুখে সংবাদ পেয়েছিলেন। সাগরের অবস্থা দেখে তারা সাগর থেকে ডাঙ্গায় চলে এসেছেন, তবে অনেকে উপরে সাগরের কাছাকাছি নিজেদের ঘরেই ছিলেন। অনেকেই নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি।
জরিপের বিশ্লেষন: কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content) সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ কার্য চালানোর সময় জানা গেছে, এরকম একটি সম্প্রচার কেন্দ্র সন্মন্ধে অনেকেরই ধারনা খুবই অস্পস্ট। এব্যপারে অনেকের কোনো রকম কোনো ধারনাই নেই। তবে বিষয়টি বুঝার পরে সবার মধ্যেই প্রচুর আগ্রহের সৃষ্টি হয়। তারা সকলেই মত দেন যে এরকম একটি কেন্দ্র এলাকায় খুবই প্রয়োজন।
নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলের কয়েকটি এলাকায় মোট ২০জনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। এখানে মাত্র দুজনের রেডিও এবং মাত্র এক জনের নিজস্ব একটি ছোট্ট টেলিভিশন ও রেডিও রয়েছে। তাদের অবশ্য খবর তেমন শুনা হয়না। রেডিওতে গান এবং টেলিভিশনে নাটক দেখা ও গানশুনা বেশী হয়। নারিদের শুধু নাটক ও গানই শোনা হয়। তবে পুরুষরা মাঝে মাঝে খবর শুনে থাকে। নারিদের মধ্যে খবর শুনার আগ্রহ খুব কম। গত সিডরের সময় পুরুষরা ১০০ শতাংশই রেডিও কিংবা টেলিভিশনে খবর পেয়েছেন কিন্তু ১০০ শতাংশ নারি বলেছেন তারা তাদের স্বামী কিংবা লোকমারফত খবর পেয়েছেন। ৮০শতাংশ বলেছেন তারা ঝড়ের পূর্বাভাষ পেয়ে নিজেদের জায়গায়ই অবস্থান করেন। এর কারণ হিসাবে তাঁরা বলেন বাড়ির নিরাপত্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। যেমন সেখানে কোথাও পানি বা বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। এ নিয়ে বিশেষ করে মেয়েদের খুবই অসুবিধা পড়তে হয়। তাই অনেকেই সেখানে যেতে তেমন আগ্রহী হয়না। নিয়তির উপরও তারা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১০০ শতাংশ বলেছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়কালে তাঁরা আবহাওয়ার সংবাদ শুনতে চান। ১০০ শতাংশ বলেছেন তাদের অনুষ্ঠান দেখতে সবচেয়ে বেশী আগ্রহ নাটকের প্রতি । তবে বাংলা সিনেমার প্রতিও তাদের আগ্রহ রয়েছে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন, কমিউনিটি রেডিও স্থাপিত হলে শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা দেয়া উচিত। অন্য ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন শাসন না করলে শিশুদের পড়াশুনা হয়না। তবে তারা এও জানিয়েছেন এর মাত্রা যেন অতিরিক্ত না হয়। এ বিষয়ে শিশুদের উপযোগী অনুষ্ঠান প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা জানিয়েছেন। ১০০ শতাংশ জানিয়েছেন বয়ো:সন্ধিকালীন সময়ে মেয়েদের সমস্যা বিষয়ক সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান বিশেষ ভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। সবাই মনে করেন এ ব্যপারে মেয়েরা এমন কি অভিভাবকরাও এ বিষয়ে তেমন সচেতন নন। এ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন। এথেকে মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ে ১০০শতাংশ জানিয়েছেন মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারন রোগবালাই, ডায়রিয়া, খাদ্যে পুষ্টিমান, টিকা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা মুলক অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। তবে মাত্র এক জন এইড্‌স বিষয়ে অনুষ্ঠান করার কথা জানিয়েছেন। বাসস্থান বিষয়ে ৭৫শতাংশ জানিয়েছেন, ভূমি ও ভূমির অধিকার বিষয়ে নানান অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। অবশ্য এ ব্যপারে পুরুষরাই বেশী আগ্রহী। নোয়াখালীতে তাঁত শিল্পের তেমন কোনো প্রসার নেই। এবিষয়ে কারো তেমন কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে ১০০শতাংশই হস্তশিল্প ও নারিদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করার কথা বলেছেন। একজন মন্তব্য করেন এক সময় নোয়াখালীতে প্রচুর তাঁতের প্রসার ছিলো । কিন্তু কালের গর্ভে তা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানে স্থানে যুগীপাড়া ছিলো। সেখানে লুঙ্গি গামছা শাড়ি এসব স্থানীয় ভাবে তৈরী হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এগুলো বাইরের জেলা গুলোতে চালান হতো। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে পারলে সেগুলো হয়তো আবার চালু হবে। আশা করা যায় এ থেকে তখন হয়তো এ এলাকার অনেক উন্নতি সাধিত হবে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন কৃষিঋণ, সার, বীজ, উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ, হাঁস মুরগি পালন, কীটনাশক ছাড়া সব্জী চাষ, খাদ্যে পুষ্টিমান ইত্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা প্রয়োজন।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যম হওয়া উচিত নাটক, কথিকা, জীবন্তিকা ইত্যাদির মাধ্যমে। এরা আরো জানিয়েছেন স্থানীয় ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে সবার কাছে তা গ্রহনযোগ্য হবে। এছাড়াও স্থানীয় ভাষায় নাটক, গান এবং স্থানীয় সমস্যা ও সমাধান ইত্যাদি বেশী বেশী প্রচার হওয়া দরকার বলে সবাই জানিয়েছেন।
উপসংহার:- সার্বিক জরিপে দেখা যায় এ এলাকার জন্য কমিউনিটি রেডিওর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দুর্গম এ অঞ্চলের মানুষ কাছের খবরটিও সঠিক ভাবে পায়না। কথায় কথায এলাকাবাসী জানায়, ‘‍ইরােক েবামায় মানুষ মরার খবর আমরা সাথে সাথে রেডিও টেলিভিশনে পাই কিন্তু পাশের গ্রামে মড়ক লেগে হাঁসমুরগী মারা গেলে আমরা তার খবর পাইনা‍ অথচ এটি আমাদের জন্য অধিকতর জরুরী’। এখানে এটি স্থাপিত হলে শুধু দুর্যোগকালীন সময়েই নয়, এ কেন্দ্র গ্রামীণ জনগণের সার্বক্ষনিক দিনযাপনের অনুসঙ্গ হয়ে থাকেব। স্থানীয় ভাষায় স্থানীয় আঙ্গিকে স্থানীয় সমস্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে এটি জনগনের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং অধিক গ্রহনযোগ্যতা পাবে। এলাকায় সচেতনতা বাড়বে। উপকৃত হবে প্রান্তিক মানুষ।

মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক
মোবাইল: ০১৭১১২২৩৩৯৯
e-mail: mhfoez@gmail.com

Mail to : massline@bangla.net
masslinemediacenter@yahoo.com



 

=> Do you also want a homepage for free? Then click here! <=
সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত