রৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৌদ্ররৃষ্টিরৌদ্ররৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রৌদ্রবৃষ্টি রোদ্রবৃষ্টি
   
 
  জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর উন্নয়নে স্থবিরতা




জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর উন্নয়নে স্থবিরতা

মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ 

জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি ব্যবসা বানিজ্য সহ সার্বিক উন্নয়নে নোয়াখালীতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এর জন্য নোয়াখালীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নোয়াখালী খাল দায়ি বলে সর্বস্তরের জনগণ এবং বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন।  জল নিষ্কাশন যোগাযোগ সেচ ইত্যাকার সামগ্রিক প্রয়োজনে নোয়াখালী খালটি ছিলো এ অঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ খালটি ছিলো মূলত: প্রবহমান একটি খরস্রোতা নদী। মেঘনার ডাকাতিয়া নামের শাখা নদী থেকে নানান ভাবে এঁকেবেঁকে নোয়াখালীর মধ্যদিয়ে দক্ষিণে সাগরে এসে মিশেছে।  নোয়াখালী খাল হাজার বছর ধরে বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের জনবসতির উপর এক ব্যাপক প্রভাব ফেলে আসছে। এ খালটিই ছিল একদিন নোয়াখালীর জনগণের জন্য স্বর্গীয় আর্শীবাদ। কিন্তু এ খালটি এখন উপকূলীয় এ জনগণের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলিমাটি সমৃদ্ধ নতুন ভূমি সাগর থেকে জেগে ওঠার ফলে সাগর যত দক্ষিণে সরে গেছে ততই উজানে এ খালের তলদেশে পলি জমে জমে ভরাট হয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এ খাল সংস্কার করার কথা থাকলেও এর জন্য কেউ কখনো কোনো কার্যকর পদপে নেয়নি। ফলে এ অঞ্চলের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতার নির্মম শিকারে নিপতিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিপুল জনগোষ্ঠী। চীনের হোয়াংহো নদীকে যেমন চীনের দুঃখ বলা হয় তেমনি নোয়াখালী খালকে ‘নোয়াখালীর দুঃখ’ বলে অভিহিত করা হয়। নোয়াখালী খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনের কার্যকারিতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। নোয়াখালী খালসহ জেলার বিভিন্ন সংযোগ খালগুলোও এভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে নোয়াখালী জেলাবাসীর জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। খালের মুখে পলি মাটি জমে বিপুল পরিমাণ আবাদী জমির চাষাবাদ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে গেছে। এজন্য প্রায় কয়েকশ’কোটি টাকার ফসল উৎপাদন থেকে জেলাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে। 
এ সমস্যা নিরসন করতে সত্তর দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন র্বোড একটি প্রকল্প হাতে নেয়। সে প্রকল্পে রহমত খাল এবং নোয়াখালী খালের ভাটিতে দুটি রেগুলেটর নির্মাণ এবং খালের ভাটিতে দুটি শাখা খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা করা হয়। এ প্রকল্পে রহমত খালের ভাটিতে লীপুরের মোজ্জার হাটে একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নোয়াখালী খালের প্রস্তাবিত রেগুলেটর নির্মাণ এবং খাল পুনঃখননের কাজ আজ পর্যন্ত করা হয়নি। ওয়াপদা খালটি বেগমগঞ্জের চৌমুহনী রেল স্টেশনের প্রায় এক কিলোমিটার দেিণ আটিয়া বাড়ী রেলওয়ে ব্রীজটি ওয়াপদা খাল এবং নোয়াখালী খালের সংযোগ স্থানে খালের উজান হিসাবে চিহ্নিত। উজান হতে খালের দেিণ মেঘনা নদী পর্যন্ত নোয়াখালী খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। সেখান থেকে দেিণ ভাটি পর্যন্ত উজানের অনেকগুলো খালসহ ভাটি অঞ্চলের বিভিন্ন পোল্ডারের খাল গুলো নোয়াখালী খালে এসে সংযুক্ত হয়েছে। জেলা সদরসহ সুধারাম, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলি মাটিতে নোয়াখালী খালের এক বিরাট অংশ বিশেষ করে মাঝামাঝি এবং ভাটির অংশ বিশেষ ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে খালের পানি নিষ্কাশন মতা দারুণভাবে লোপ পাওয়ায় নোয়াখালীর উপকূলের ব্যাপক এলাকা জলাবদ্ধতায় প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে সমগ্র চাটখিল, বেগমগঞ্জ ও সদরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চল খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সুধারাম থানার সোন্দলপুর, নেয়াজপুর, নরোত্তমপুর, ঘোষবাগ, বাটাইয়া এবং চাপরাশির হাটের ব্যাপক জমি সারাবছর পানিতে তলিয়ে থাকে। এজন্য এ অঞ্চলের মানুষগুলোকে দীর্ঘদিন থেকে খাদ্যাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে । কোন কোন এলাকার মানুষজন জায়গা জমি থাকা সত্ত্বেও মুটে মজুরী করে অমানবিক জীবনের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে অসহায়ের মত দিন কাটাচ্ছে। এসব এলাকায় সরজমিনে গেলে দেখা যাবে ভরা চাষের মৌসুমেও গ্রামের পর গ্রামগুলো নীরব নিস্তব্ধ হয়ে আছে। আশির দশক থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন সময় অপরিকল্পিতভাবে কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের অধীনের এ খালের কিছু পুনঃখননের কাজ হাতে নেয়া হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর মতে এতে সময় এবং বিপুল অর্থ ও গমের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি। এখন দিন দিন এর অবস্থা আরও অবনতি হচ্ছে। ভাটিতে কোন রেগুলেটর নির্মিত না হওয়ার ফলে খালের বিরাট অংশ পলিমাটিতে ভরাট হয়ে যায় এবং সময়ে সময়ে প্রচন্ডভাবে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।  এদিকে সুধারাম, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জের এ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে পোল্ডার ৫৯/১ এ এবং ৫৯/১ বি বেড়ী বাঁধের সংযোগস্থল সোনাপুর এলাকার দক্ষিণে কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার ভাটিতে গাংচিলে বড় আকারের একটি রেগুলেটর নির্মাণ পোল্ডার ৫৯/৩ বি এবং ৫৯/৩ সি সংযোগ বেড়ী বাঁধসহ কোজার ড্যাম নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় লুপ-কাট সহ ৩০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রস্তাব করে নোয়াখালী খাল পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরী করে। কিন্তু এ প্রকল্পটি আজ অব্দি বাস্তবায়িত না হওয়ায় নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এককালে নোয়াখালী খাল ছিলো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা একটি বহমান নদী। মাঝি-মাল্লাদের ভাটিয়ালী সুরের ধ্বনীতে মানুষের মন জুড়িয়ে যেতো। রং-বেরংয়ের পাল তোলা নৌকার সারি ছুটে যেত এর বুক চিরে। দুর দূরান্তের পণ্যবাহী বজরা চলাচল করত এ খালে। কিন্তু বিগত যৌবনা নিস্তরঙ্গ জলকন্যার সেই রূপ এখন কেবলই ধূসর স্মৃতি হয়ে জেগে আছে। বর্ষাকালে এ খালে জোয়ারভাটা হত, শোঁ শোঁ শব্দে উঁটু হয়ে ধেয়ে আসত স্রোত। অথচ আজ জোয়ারের পলি মাটিতে বিলীন হয়ে গেছে খালের অস্তিত্ব। আবার মরার উপর খাড়ার ঘা হিসাবে উন্নয়নের নামে নীচু করে তৈরি করা হয়েছে অনেক গুলো সেতু। সে সেতুর নীচ দিয়ে এখন কোনো নৌকা যেতে পারেনা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নৗ যোগাযোগ বেকার হয়ে পড়েছে ল ল মাঝি মাল্লার। নোয়াখালী খাল ভরাট হয়ে পড়ায় জেলার হাতিয়া দ্বীপ ছাড়া সমগ্র জেলার প্রায় দু’শ কিঃ মিঃ বিস্তীর্ণ পানি নিষ্কাশনের পথ গুলো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে যেখানে কোনোদিন জলাবদ্ধতা ছিলোনা সে সব এলাকাতেও জরাবদ্ধতার তীব্র প্রকোপ শুরু হয়েছে। সেখানে প্রভাবশালীরা প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। নিস্তেজ হয়ে পড়েছে পানি প্রবাহ। আজ আর নোয়াখালী খালে জোয়ার আসে না, খাল দিয়ে পানি মেঘনা নদী হয়ে সমুদ্রে যায়না। শুষ্ক মৌসুমে পুরো খাল একেবার শুকিয়ে যায় আবার বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দী অবস্থায় আটক থাকে। খালের মুখে একটি বড় আকারের রেগুলেটর নির্মাণ এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই আশা করা হচ্ছে জনগণের দুঃখ লাঘব হবে।
এদিকে নোয়াখালী শহরের জলাবদ্ধতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ঘাট সহ শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এর কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগও চরমে উঠেছে। নোয়াখালী শহরের পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা এখন একটি ট্যকনিক্যাল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ শহরের পানি নিষ্কাষনের যায়গাগুলো চিহ্নিতকরণ নানান প্রতিকুলোতার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছে। শহরের পানি মূলত: বিভিন্ন দিকদিয়ে নোয়াখালী খালে গিয়ে পড়ে। এখন সে খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের পানি নিষ্কাষনেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের মাঝামাঝি গুপ্তাংক থেকে হরিণারায়ণ পুর হয়ে ছাগল মারা খাল, বক্সিমিজির পোল থেকে পশ্চিমে মালেক খাল, উত্তরদিকে পুলিশ লাইনের পাশ দিয়ে গাবুয়া খাল মুখী নালাগুলো কিছু অবিবেচক মানুষের কর্মকান্ডে দৃশ্যত: প্রায় বিলিন হয়ে গেছে। সেখানে রাস্তা, বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মানের কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট রুপ ধারণ করেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহর পানিতে থৈ থৈ করে। হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় পাড়া মহল্লা। নষ্ট হয় রাস্তাঘাট সহ অবকাঠামো। ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার।
মূল নোয়াখালী শহর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে পঞ্চাশের দশকে মাইজদিতে নোয়াখালী শহর স্থানান্তরিত করা হয়। এ শহরে নোয়াখালীর প্রাচীন ঐতিহ্যের কিছুই নেই। বসবাসের জন্য একটি নিরাপদ শহর হিসাবে সর্বত্র সুপরিচিত । এখন এটি একটি সুন্দর মনোরম শান্ত বর্ধিষ্ণু শহর হিসাবে গড়ে উঠছে। ভৌগোলিক দিক দিয়েও এর গুরুত্ব বাড়ছে। শহরের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করতে পারলে শহরটি দক্ষিণ পূর্ব বাংলার একটি অনিন্দ্য সুন্দর পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে উঠতে পারে।

মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
গবেষক, গণমাধ্যম কর্মী

 

Mahmudul Huq Foez
 
আপনজন
 
ভালোবাসার একটি গোলাপ
সাতরাজারই ধন,
কোথায় খুঁজিস ওরে ক্ষেপা
এইতো আপন জন।
নীরবতা
 
নীরবে কেটেছে দিবস আমার
নীরবে কেটেছে রাত,
নীরবে হেনেছে হৃদয় আমার
প্রণয়ের অভিসম্পাত।
রঙ
 
রঙ দেখেছো রঙ ?
শাওন রাতের
নিকষ কালো
অন্ধকারের রঙ !
রঙ দেখেছো রঙ !
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
 
কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content)
সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ
মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। নোয়াখালী সদরের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই চর এলাকা। এখানে বাস করে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অধিকাংশই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাছাড়াও দিনমজুর, রিক্সাশ্রমিক, জেলে প্রভৃতি পেশার মানুষ এখানে বাস করে। খুব কমসংখ্যক নারি কৃষি সহ বিভিন্ন কাজ করলেও তারা মূলত ঘরকন্যার কাজ করে থাকে। ঘর কেন্দ্রিক নানান কাজের সঙ্গেও এরা জড়িত। এইসব নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার হার খুব কম। জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতাও এদের তেমন নেই। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এরা বেশীরভাগ সময়ে সনাতন জ্ঞান, নিজস্ব ধারনা এবং আকাশের হাবভাব দেখে বুঝতে চেষ্টা করে। প্রায় ক্ষেত্রে এরা নিয়তির উপর নিজেদেরকে সমর্পন করে থাকে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের ঝড় জলোচ্ছাস ও সাম্প্রতিক সিডরের কারনে এদের ভিতর কিছুটা সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের অধিকাংশের বাড়িতে রেডিও কিংবা টেলিভিশন নেই। তবে তারা স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে রেডিও টেলিভিশন থেকে খবরাখবর পেয়ে থাকে।
গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে অনেক গুলো বড় বড় ঝড় জলোচ্ছাস গর্কী সহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে গিয়েছিলো। সে দুর্যোগ গুলোতে প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ‘৫৮.’৬০, ও ‘৭০ এর জলোচ্ছাস এ অঞ্চলে ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। সে সময় এখানকার মানুষ কোনো মাধ্যম থেকে কেনো সংবাদই পেতোনা। সে সময়ের সরকার গুলোও ছিলো এব্যপারে একেবারেই উদাসীন।
নোয়াখালী সদরের সর্বদক্ষিনে হাতিয়া ষ্টিমার ঘাট ও অতিসম্প্রতি বয়ার চরের সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলে ফেরী চলাচলের জন্য চেয়ারম্যান ঘাট নামক স্থানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌপরিবহন সংস্থার একটি পল্টুন স্থাপিত হয়েছে । এখানে হাতিয়া দ্বীপ ও নোয়াখালীর মূল ভূখন্ডের মধ্যে ফেরি যোগাযোগ রয়েছে । এ এলাকায় মেঘনার মোহনায় প্রচুর সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার ও ছোটছোট জেলে নৌকা এসে ভীড়ে থাকে । এই ফেরীঘাটের সুবাদে এখানে একটি জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। এখানের অনেক জেলে জানিয়েছেন, তাদের অনেকেরই নিজস্ব কোনো রেডিও নেই। যারা চরের কাছাকাছি থেকে সাধারনত: মাছ ধরে থাকে। ছোট নৌকা নিয়ে তারা কখনো গভীর সমুদ্রে যায় না। কখনো কোনো দুর্যোগ দেখলে নদীর হাবভাব বুঝে সাবধানতা অবলম্বন করে। সারাদিন মাছ ধরা শেষে রাতে তারা চেয়ারম্যান ঘাটে কিংবা হাতিয়া ষ্টিমার ঘাটে আসলে লোকমুখে বিভিন্ন সংবাদ পেয়ে থাকে। নদীর কূলের এ বাজার গুলোতে এখন রেডিও তেমন শুনা হয়না। চা দোকান গুলোতে টেলিভিশন আছে । তাই সেখানে কাষ্টমারের ভীড় লেগে থাকে। যে দোকানে টেলিভিশন নেই সে দোকানে লোকজন তেমন যায় না। এসব দোকান গুলোতে বেশীর ভাগ সময় নাটক ও সিনেমা বেশী দেখা হয়। তবে দুর্যোগকালীন সময় সংবাদ বেশী দেখা হয়। এলাকার মানুষদের বদ্ধমূল ধারনা জন্মেছে যে, রেডিও টেলিভিশনে জাতীয় সংবাদ ছাড়া স্থানীয় সংবাদ প্রচারিত হয়না। তাই তারা খুব প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্থানীয় সংবাদ গুলো লোকমারফত পেয়ে থাকে। তবে তা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয়না। দুর্গম অঞ্চলের অনেক মানুষ জানিয়েছেন গত সিডরের সময় তারা লোকমুখে সংবাদ পেয়েছিলেন। সাগরের অবস্থা দেখে তারা সাগর থেকে ডাঙ্গায় চলে এসেছেন, তবে অনেকে উপরে সাগরের কাছাকাছি নিজেদের ঘরেই ছিলেন। অনেকেই নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি।
জরিপের বিশ্লেষন: কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (content) সম্পর্কে অংশগ্রহণমূলক জরিপ কার্য চালানোর সময় জানা গেছে, এরকম একটি সম্প্রচার কেন্দ্র সন্মন্ধে অনেকেরই ধারনা খুবই অস্পস্ট। এব্যপারে অনেকের কোনো রকম কোনো ধারনাই নেই। তবে বিষয়টি বুঝার পরে সবার মধ্যেই প্রচুর আগ্রহের সৃষ্টি হয়। তারা সকলেই মত দেন যে এরকম একটি কেন্দ্র এলাকায় খুবই প্রয়োজন।
নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিনে সমুদ্র উপকূলের কয়েকটি এলাকায় মোট ২০জনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। এখানে মাত্র দুজনের রেডিও এবং মাত্র এক জনের নিজস্ব একটি ছোট্ট টেলিভিশন ও রেডিও রয়েছে। তাদের অবশ্য খবর তেমন শুনা হয়না। রেডিওতে গান এবং টেলিভিশনে নাটক দেখা ও গানশুনা বেশী হয়। নারিদের শুধু নাটক ও গানই শোনা হয়। তবে পুরুষরা মাঝে মাঝে খবর শুনে থাকে। নারিদের মধ্যে খবর শুনার আগ্রহ খুব কম। গত সিডরের সময় পুরুষরা ১০০ শতাংশই রেডিও কিংবা টেলিভিশনে খবর পেয়েছেন কিন্তু ১০০ শতাংশ নারি বলেছেন তারা তাদের স্বামী কিংবা লোকমারফত খবর পেয়েছেন। ৮০শতাংশ বলেছেন তারা ঝড়ের পূর্বাভাষ পেয়ে নিজেদের জায়গায়ই অবস্থান করেন। এর কারণ হিসাবে তাঁরা বলেন বাড়ির নিরাপত্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। যেমন সেখানে কোথাও পানি বা বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। এ নিয়ে বিশেষ করে মেয়েদের খুবই অসুবিধা পড়তে হয়। তাই অনেকেই সেখানে যেতে তেমন আগ্রহী হয়না। নিয়তির উপরও তারা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১০০ শতাংশ বলেছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়কালে তাঁরা আবহাওয়ার সংবাদ শুনতে চান। ১০০ শতাংশ বলেছেন তাদের অনুষ্ঠান দেখতে সবচেয়ে বেশী আগ্রহ নাটকের প্রতি । তবে বাংলা সিনেমার প্রতিও তাদের আগ্রহ রয়েছে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন, কমিউনিটি রেডিও স্থাপিত হলে শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা দেয়া উচিত। অন্য ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন শাসন না করলে শিশুদের পড়াশুনা হয়না। তবে তারা এও জানিয়েছেন এর মাত্রা যেন অতিরিক্ত না হয়। এ বিষয়ে শিশুদের উপযোগী অনুষ্ঠান প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা জানিয়েছেন। ১০০ শতাংশ জানিয়েছেন বয়ো:সন্ধিকালীন সময়ে মেয়েদের সমস্যা বিষয়ক সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান বিশেষ ভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। সবাই মনে করেন এ ব্যপারে মেয়েরা এমন কি অভিভাবকরাও এ বিষয়ে তেমন সচেতন নন। এ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন। এথেকে মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ে ১০০শতাংশ জানিয়েছেন মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারন রোগবালাই, ডায়রিয়া, খাদ্যে পুষ্টিমান, টিকা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতনতা মুলক অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। তবে মাত্র এক জন এইড্‌স বিষয়ে অনুষ্ঠান করার কথা জানিয়েছেন। বাসস্থান বিষয়ে ৭৫শতাংশ জানিয়েছেন, ভূমি ও ভূমির অধিকার বিষয়ে নানান অনুষ্ঠান প্রচার করা দরকার। অবশ্য এ ব্যপারে পুরুষরাই বেশী আগ্রহী। নোয়াখালীতে তাঁত শিল্পের তেমন কোনো প্রসার নেই। এবিষয়ে কারো তেমন কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে ১০০শতাংশই হস্তশিল্প ও নারিদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করার কথা বলেছেন। একজন মন্তব্য করেন এক সময় নোয়াখালীতে প্রচুর তাঁতের প্রসার ছিলো । কিন্তু কালের গর্ভে তা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানে স্থানে যুগীপাড়া ছিলো। সেখানে লুঙ্গি গামছা শাড়ি এসব স্থানীয় ভাবে তৈরী হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এগুলো বাইরের জেলা গুলোতে চালান হতো। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে পারলে সেগুলো হয়তো আবার চালু হবে। আশা করা যায় এ থেকে তখন হয়তো এ এলাকার অনেক উন্নতি সাধিত হবে।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন কৃষিঋণ, সার, বীজ, উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ, হাঁস মুরগি পালন, কীটনাশক ছাড়া সব্জী চাষ, খাদ্যে পুষ্টিমান ইত্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা প্রয়োজন।
১০০শতাংশ জানিয়েছেন অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যম হওয়া উচিত নাটক, কথিকা, জীবন্তিকা ইত্যাদির মাধ্যমে। এরা আরো জানিয়েছেন স্থানীয় ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে সবার কাছে তা গ্রহনযোগ্য হবে। এছাড়াও স্থানীয় ভাষায় নাটক, গান এবং স্থানীয় সমস্যা ও সমাধান ইত্যাদি বেশী বেশী প্রচার হওয়া দরকার বলে সবাই জানিয়েছেন।
উপসংহার:- সার্বিক জরিপে দেখা যায় এ এলাকার জন্য কমিউনিটি রেডিওর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দুর্গম এ অঞ্চলের মানুষ কাছের খবরটিও সঠিক ভাবে পায়না। কথায় কথায এলাকাবাসী জানায়, ‘‍ইরােক েবামায় মানুষ মরার খবর আমরা সাথে সাথে রেডিও টেলিভিশনে পাই কিন্তু পাশের গ্রামে মড়ক লেগে হাঁসমুরগী মারা গেলে আমরা তার খবর পাইনা‍ অথচ এটি আমাদের জন্য অধিকতর জরুরী’। এখানে এটি স্থাপিত হলে শুধু দুর্যোগকালীন সময়েই নয়, এ কেন্দ্র গ্রামীণ জনগণের সার্বক্ষনিক দিনযাপনের অনুসঙ্গ হয়ে থাকেব। স্থানীয় ভাষায় স্থানীয় আঙ্গিকে স্থানীয় সমস্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে এটি জনগনের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং অধিক গ্রহনযোগ্যতা পাবে। এলাকায় সচেতনতা বাড়বে। উপকৃত হবে প্রান্তিক মানুষ।

মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক
মোবাইল: ০১৭১১২২৩৩৯৯
e-mail: mhfoez@gmail.com

Mail to : massline@bangla.net
masslinemediacenter@yahoo.com



 
সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত সকল সত্ব সংরক্ষিত
This website was created for free with Own-Free-Website.com. Would you also like to have your own website?
Sign up for free